| |
|---|
খান আরশাদ, বীরভূম:
রবিবার বিকেলের পড়ন্ত রোদে বীরভূমের রাজনগর ব্লকের চন্দ্রপুর ফুটবল মাঠ যেন এক নীল-সাদা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। উপলক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের এক মেগা জনসভা। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের কাছে এই সভার গুরুত্ব ছিল অন্য জায়গায়। রাজনগর এলাকায় এটি ছিল অনুব্রত মণ্ডলের এক শক্তি প্রদর্শন। আর সেই মঞ্চেই তাঁকে রুপোর মুকুট পরিয়ে বরণ করে নেওয়ার ঘটনা জেলা রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।
সভার শুরুতেই তৃণমূল নেতৃত্ব অনুব্রত মণ্ডলকে একটি রুপোর মুকুট উপহার দেন। কর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মাঝে অনুব্রতর মাথায় সেই মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের রাজনীতিতে ‘দাদা’ যে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, এই রাজকীয় বরণ তারই প্রমাণ। বিরোধীদের প্রচারকে নস্যাৎ করে দিয়ে অনুগামীরা বুঝিয়ে দিলেন, ‘কেষ্ট’র জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাঁটা পড়েনি।
সভায় মাইক হাতে অনুব্রতর হুঙ্কার: “ভুল করলেই অন্ধকার”।
মঞ্চে সেই চেনা মেজাজে ধরা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তিনি সাফ জানান, এই লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিলেন সতর্কবার্তা। “২০২৬-এর নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। ভুল করবেন না, ভুল করলেই অন্ধকার নেমে আসবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করা ছাড়া বাংলার সামনে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র সরকার এজেন্সি দিয়ে তৃণমূলকে দমাতে চেয়েছিল, কিন্তু বীরভূমের মাটি তৃণমূলের দুর্গ ছিল এবং থাকবে।
বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, বীরভূমে সংগঠন মানেই অনুব্রত মণ্ডল। ২০১১ সালের আগে রাজনগরের সন্ত্রাসের পরিবেশের সাথে বর্তমানের তুলনা করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দুয়ারে সরকার আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে।” বিজেপি বা অন্য কোনো শক্তি এই উন্নয়নকে রুখতে পারবে না বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

এদিনের সভাকে কেন্দ্র করে রাজনগরের চন্দ্রপুরে সকাল থেকেই ছিল সাজো সাজো রব। মঞ্চে অনুব্রত মণ্ডল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী এবং জেলা কোর কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সভার বিপুল জমায়েত প্রমাণ করল যে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে বীরভূমে তৃণমূল এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।
চন্দ্রপুরের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রানা সিংহ, ডক্টর প্রলয় নায়েক, রাজনগর ব্লক সভাপতি সুকুমার সাধু সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব।


