ছেলে ও স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ! আত্মঘাতী অভিযুক্ত

ময়নাগুড়ি, ৩ জানুয়ারি : বাড়িতে পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রী ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মেরে নিজে আত্মহত্যা করলো অভিযুক্ত। রবিবার রাতে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ময়নাগুড়ির পানবাড়ি এলাকায়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত ছেলে ও স্ত্রীকে শিলিগুড়ি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। জানা গেছে মৃত ওই ব্যক্তির নাম মহেন্দ্র নাথ রায়(৬০)। সোমবার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় মহেন্দ্র বাবু বাড়ি আসেন। এরপর স্ত্রীর সাথে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমশ এই বাক বিতন্ডা মারামারিতে পরিণত হয়। সেই অবস্থায় তাঁর স্ত্রী মিনুবালা রায়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারলে তার ছেলে রবি রায় এগিয়ে আসে। মহেন্দ্র বাবু রবির গলায় সেই অস্ত্র দিয়ে কোপ মারেন বলে দাবি। এরপর মহেন্দ্র বাবু ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে মহেন্দ্র বাবুর পরিবারের লোক এবং স্থানীয়রা দ্রুত আহত মিনুবালা ও রবি কে হাসপাতালের নিয়ে যান। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের শিলিগুড়ি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয় বলে সূত্রের খবর। এদিকে অনেক বেলা হওয়ার পরেও মহেন্দ্র বাবুর ঘরের দরজা না খোলায় তার বড় মেয়ে প্রতিমা রায় দরজা খুলে দেখেন তার বাবা ঘরে পড়ে আছেন। এরপর ময়নাগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান।

মৃত মহেন্দ্র রায় এর বড় মেয়ে প্রতিমা রায় বলেন, ” বাবা আগের থেকেই এরকম। মা কে সন্দেহ করতো। রবিবার রাতেও একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। মাকে ধারালো ছুরি দিয়ে মারে তারপর ভাই এগিয়ে আসলে ভাইকেও মারে। আমি সকালে এই খবর জানতে পারি। বাড়িতে মাঝে।মাঝেই এই ধরণের ঝামেলা হতো।” ময়নাগুড়ি থানা সূত্রে খবর, পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।”