| |
|---|
খান আরশাদ, বীরভূম:
গত দশ মাস ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় জেলা জুড়ে বন্ধ নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা।
নিশ্চয়যান ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক মহম্মদ নুর আবসার জানিয়েছেন নিশ্চয় যানের চালকরা প্রত্যেকেই অতি সাধারণ ঘরের মানুষ। পেটের দায়ে তাঁরা এই পেশায় নেমেছেন। কিন্তু গত দশ মাস ধরে তারা বকেয়া পাননি। নিজেদের সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে টাকার অভাবে পরিষেবা দিতে পারছেন না। বকেয়া টাকা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সিএমওএইচ সহ জেলার প্রতিটি বিএমওএইচ-কে জানানো হয়েছে বলে জানান জেলা সম্পাদক। জেলা জুড়ে নিশ্চয়যান চালকদের এই সিদ্ধান্তে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন রোগীরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক দুস্থ পরিবারের রোগীর লোকেরা অন্যের কাছে ধার করে গাড়ি ভাড়া করে হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসছেন।
খয়রাশোল ব্লকের লোকপুরের ভাড্ডি গ্রামের এক রোগীর আত্মীয় হেমন্ত ভান্ডারী ও সবিতা ভান্ডারী জানিয়েছেন নিশ্চয়যান পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। কোন উপায় না পেয়ে লোকের কাছে ধার করে অন্য একটি বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করে তাঁদের গর্ভবতী রোগীকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। এই গর্ভবতী রোগীটির প্রচণ্ড ব্লিডিং শুরু হয়েছিল।
এদিকে নিশ্চয়যান মালিক ও চালকরা জানান, কোন মুমূর্ষ রোগীর পরিবারের কেউ তাঁদেরকে ফোন করেছেন সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিজের টাকা খরচা করে অন্য গাড়ি ভাড়া করে ওই মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছেন এমনটাই জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিশ্চয়যান চালকদের সাথে আলোচনায় বসুন এবং বিষয়টি মিটিয়ে নিন। জেলা সম্পাদক জানান আমরা ধর্মঘট করিনি। টাকার অভাবেই আমাদের পরিষেবা বন্ধ রয়েছে জেলা জুড়ে। কারণ গাড়িতে তেল ভরার আমাদের পয়সা নেই। গত দশ মাস ধরে আমাদের বকেয়া বন্ধ রয়েছে। যতদিন না বকেয়া টাকা পাওয়া গেছে ততদিন পর্যন্ত নিশ্চয়যান পরিষেবা প্রদান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন নিশ্চয়যান ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ।


