থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে ফের চুরির ঘটনা ঘটলো মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে, ড্রাগস আসক্ত যুবকদের দিকে উঠছে অভিযোগের আঙুল

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ঘটে যাচ্ছে চুরির ঘটনা। মালদার হরিশচন্দ্রপুরে চুরি, ছিনতাইর ঘটনা হামেশাই ঘটতে থাকছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে থানা থেকে ঢিল ছড়া দূরত্বে বাসস্ট্যান্ডের সামনে লটারির দোকান থেকে ঘটে গেল চুরির ঘটনা।প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকার লটারি এবং কিছু পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি হয়েছে বলে সেই দোকান সূত্রে জানা গেছে। একের পর এক চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানিয়রা। ঐ দোকান থেকে এর আগেও একবার চুরি হয়েছে বলে খবর। দোকানের বৃদ্ধ মালিক সঞ্জীব সিংহের থেকে জানা গেছে যে তিনি লোন নিয়ে ঐ দোকান করেছিলেন। লকডাউনে এমনিতেই তার ব্যবসা চলছিল না। তার উপর দুই বার চুরি। জমি সম্পত্তি বলে কিছুই নেই তার। ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুরে মোবাইল ছিনতাই, মানুষ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বাইরে বের হওয়ার সাথে সাথেই হাত থেকে টাকা ছিনতাই করে নিয়ে চলে যাচ্ছে, মন্দির থেকে প্রণামীর টাকা চুরির ঘটনা হামেশাই ঘটতে থাকছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এসবের জন্য প্রসাশনকে দায়ি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি এলাকার মাদকাসক্ত ছেলেরা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। ড্রাগ, মদের নেশায় আসক্ত ছেলেরা তাদের প্রয়োজন মেটাতে এলাকার মানুষদের সম্পদ নষ্ট করছে। সামনে যা পাচ্ছে তাই চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে তার ফুটেজ চেক করলেও তো অনেক তথ্য পাওয়া যায়, এলাকায় যত মদের দোকান আছে ও ড্রাগ মাফিয়া আছে তাদের গিয়ে জেরা করলেও অনেক কিছু জানা যাবে কিন্ত প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। সাধারণ মানুষ আজ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাচ্ছে।

কান্না ভেজা গলায় দোকানের মালিক সঞ্জীব সিংহ বলেন, “সকালে এসে দেখি দোকানে তালা ভাঙ্গা। টিকিট, টাকা কিছুই নেই। কারা করেছে কিছু জানতে পারিনি। থানায় লিখিত অভিযোগ করে এসেছি। আমি লোন করে দোকান করেছি। জমি জমা কিছু নেই। এই দোকানটুকুই ভরসা। এতেও দু-দুবার চুরি হয়ে গেল। এভাবে কীভাবে বাঁচবো ?

স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রায় বলেন “এখানে এসে শুনলাম লটারির দোকান ভেঙ্গে টাকা পয়সা চুরি করে নিয়ে গেছে। কয়দিন আগেই এই দোকান থেকেই চুরি হয়েছিল। আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি ইতিমধ্যে ড্রাগ মাফিয়াদের ড্রাগ বন্ধ করুক। তারা ড্রাগের নেশায় এসব করছে। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রশাসন নিশ্চুপ। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিনের পর দিন এইরকম চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। সকলের দাবি এবার প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ড্রাগ মাফিয়াদের উপর অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসীর একাংশ। নেতা- মন্ত্রীদের বাড়ির বাইরে এতো পাহারাদার অথচ সাধারণ মানুষের সামান্য নিরাপত্তা টুকুও নেই কেন? প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।