| |
|---|
সিদ্ধার্থ সিংহ : করোনা কালের পর থেকে গোটা বিশ্বের ছবির বাজার একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ব্যতিক্রম হয়নি ভারত তথা কলকাতাতেও।bসেই সময় ছবির বাজার চাঙ্গা করার জন্য মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংরয়ে বিপুল টাকার মাইনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইংরেজি সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক, কিউরেটর শুভঙ্কর সিংহ প্রতিষ্ঠা করেন আর্টভার্স।
শুধু কলকাতার নামীদামি গ্যালারিতেই নয়, দিল্লি মুম্বাই হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত গ্যালারিগুলিতেও একের পর এক আয়োজন করতে থাকেন বিভিন্ন মাধ্যমের ছবি, ভাস্কর্য এবং স্থিরচিত্রের প্রদর্শনী।
এ বার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচারে তিন দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল আর্টভার্স। প্রদর্শনীর নাম ছিল— স্তোত্রম। বিষয়ভিত্তিক হওরয়া ফলে আর পাঁচটা চিত্রপ্রদর্শনীতে যে ধরনের ছবি থাকে, এই প্রদর্শনীতে ছিল আধ্যাত্বিক চেতনার একেবারে ভিন্ন ধারার ছবি। রিয়েলস্টিক থেকে অ্যাবস্ট্রাক্ট, ফোক থেকে মিক্স মিডিয়া, সব ধরনের কাজই ছিল এখানে। বেশিরভাগই ছিল দেব-দেবীদের চিত্রকলা।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অতিথি ছিলেন ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল ডক্টর সুবিমলেন্দু সিংহা, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শ্রী প্রদীপ মৈত্র এবং শ্রী মলয় দাস। কিউরেটর ছিলেন আর্টভার্সের কর্ণধার শুভঙ্কর সিংহ।
অংশ নিয়েছিলেন মোট ৬৮ জন তরুণ শিল্পী। সবারই ছিল কম করেও দুটো করে ছবি। কারও কারও তিনটে এমনকি চার-পাঁচটা করেও।
শিল্পীদের উৎসাহিত করতে এ দিন চারজন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম মিলি নন্দী, দ্বিতীয় অনামিকা সরকার এবং তৃতীয় বিশ্বরূপ পাঁজা। এ ছাড়াও দেওয়া হয় একটি কিউরেটার চয়েস পুরস্কার আমন চক্রবর্তীকে।
বাকি ছবিগুলিও গুণগত মানে যেহেতু কেউ কারও চেয়ে কম নয়, তাই মেরিট লিস্ট হিসেবে প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় অনন্যা দত্তকে। গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অম্লান দত্তকে। সিলভার অ্যাওয়ার্ড গাঙ্গোত্রী রায়কে আর ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড শৈবাল বিশ্বাসকে।
পুরস্কার বা মেরিট লিস্টে নাম না থাকলেও যাঁদের ছবি গ্যালারি উপচে পড়া দর্শকদের নজর কেড়েছে তাঁরা হলেন ভাস্বতী গুহ, রনিত পাল, মোনালিসা গোপ, পূবালী ধর, দীপারতি চক্রবর্তী, সুস্মিতা গুহ রায়, নন্দিনী গনেরওয়াল, অনন্যা ব্যানার্জি ভট্টাচার্য, অনিন্দিতা মিত্র, তৃষিতা দত্ত-সহ আরও অনেকের।
আর এই ছবির পদর্শনী যে চূড়ান্ত সফল হয়েছে, তার প্রমাণ গ্যালারিতে ছবি টানাতে না টানাতেই একের পর এক বিক্রি।
অর্থাৎ যে উদ্দেশ্য নিয়ে শুভঙ্কর সিংহ গড়ে তুলেছিলেন তাঁর স্বপ্নের আর্টভার্স, সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। চারিদিকে এত হাতছানি থাকা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষকে তিনি ঘর থেকে বার করতে পেরেছেন ছবি দেখার জন্য। যেটা তরুণ শিল্পীদের কাছে অত্যন্ত আশাপ্রদ।


