ধর্মীয় পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক কাজের পরিসরও বাড়াতে হবে মসজিদ কমিটিগুলিকে

মসজিদ মানেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।সাধারন মানুষের আর্থিক দানের উপর মসজিদ নির্মান, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়। এখান নামাজ পাঠ, আরবী শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক প্রেক্ষাপটেও কাজ করা দরকার। লিখছেন, মহিউদ্দীন আহমেদ।

মসজিদ মানেই আল্লাহর ঘড়। সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, মক্তবে ইমাম সাহেবের আরবী পড়ানোর প্রচলনই দেখা যায়। বর্তমান সমাজে ইসলাম সম্প্রদায়ের মধ্যে নামাজ, রোজা, হ্বজ, জাকাত, আরবী ভাষা শিক্ষা সব বিষয়ে মসজিদে আলোচিত হয়। মূলত, ধর্মীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। নবীজির সময় কালে খেজুর পাতার মসজিদ থেকে পরবর্তী কালে মাটিরর মসজিদ, চুন সুড়কী দিয়ে ইঁটের মসজিদ নির্মান এবং সর্বশেষ আধুনিক সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝাঁ চকচকে মসজিদ, বাতানুকূল যন্ত্র, অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম সবই ব্যবস্থা হচ্ছে সর্বত্রই। অর্থ্যাৎ পরিকাঠামোগত দিক দিয়ে পরিবর্তন ও উন্নয়ন বজায় রয়েছে। পাশাপাশি নামাজ পড়ার প্রধান কেন্দ্রে নামাজ ও ধর্মীয় আলোচনা সবই হয় মসজিদে। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থায় যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে “পিছিয়ে পড়া থাকা” মুসলিম সমাজের সামগ্রিক মানন্নোয়ন ও “মুসলিম যুব সমাজ ও বর্তমান প্রজন্মকে আগামীর উপযুক্ত করতে” সামাজিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব দিক দিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে মসজিদ কমিটি গুলিকে আরো অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া ও যুগপোযোগী করা দরকার। এখন মুসলিম সম্প্রদায়ের তরুন যুব সমাজে শিক্ষিতর সংখ্যা বেড়েছে। জেনারেল লাইন ছাড়াও আইটি, ডাক্তারি, ইঞ্জীনিয়ারিং, ল’, জার্নালিজম সহ একাধিক কর্মমূখী পেশাদার শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে তরুন প্রজন্ম। পাশাপাশি তারাও নামাজী হচ্ছে। নামাজ, রোজা পালন সহ ইসলামিক শিক্ষায় মগ্ন থাকছে। কোরান হাদীশ সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে। এই বর্তমান তরুন প্রজন্মকে মসজিদমুখী করে রাখা ও মসজিদকে সমাজের প্রানকেন্দ্র করে সমাজের সার্বিক উন্নয়নে নজড় রাখাও জরুরী। মসজিদ চত্বরে পৃথক লাইব্রেরী, বাংলা ইংরেজী পত্র পত্রিকা রাখা ও পড়ার সুযোগ করে দেওয়া, ষান্মাষিক বা বার্ষিক ধর্মীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি-সংবাদ পত্র পত্রিকা প্রকাশ, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্য কনফারেন্স রুম, সমাজ সেবামূলক কাজে রক্তদান শিবির, মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্হানীয় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার বিনামূল্যে সুচিকিৎসা, আরবী ভাষা শিক্ষা ও শরীয়তি বিধানমতে নৈতিক চরিত্র গঠন করতে মক্তবের সঙ্গে মাদ্রাসার আদলে পৃথক পড়াশুনোর ব্যাবস্থা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মুসুল্লী ও স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা সভা, ছোট খাট বিবাদের শান্তিপূর্ন নিষ্পত্তি ও সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহ বিভিন্ন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার দিকেও মসজিদ কমিটিগুলিকে উদ্যোগী হতে হবে। এবং সমাজের সার্বিক মঙ্গল সাধনে, মুসলিম সমাজের আজকের শিশু থেকে তরুন প্রজন্মকে ইসলামিক জীবনযাপনে মগ্ন রেখে সুস্থ্য সমাজের উপযোগী করে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্ঠা আমাদের সকলকেই নিতে হবে । ইসলাম শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি। ইসলাম শান্তি, সম্প্রতী, পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, মানু্ষকে ভালোবাসা, সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যাবস্থা বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, অমানবিকতা, অন্যের ক্ষতি করার কথা কোনও দিন কোথাও বলা হয় নি। ভাবতে গিয়ে দুঃখ হয়, তবুও আজকের দিনে “নামাজী ঈমানদার সৎ মুসলিমকেও” নেক নজরে দেখা হয় না। বৃহত্তর সমাজের মানচিত্রে “মুসলমান” মানেই যেন তারা “অন্যরকম মানুষ” “অবিশ্বাসী” “ভালো কিছু করে না, করতে পারে না” এমন ভেদ-ভাবনায় বিভোর হয়ে আছে বৃহত্তর সমাজের একাংশ। তার জন্য অন্যকে দোষারোপ না করে, অন্যের প্রতি অনুতাপ, অভিযোগ না করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে নিজস্ব পথে, যে শিক্ষা আমাদের পবিত্র আল কোরআন দিয়েছে, যে শিক্ষা মহানবী হজরত মহম্মদ ( সঃ ) দিয়েছেন। পবিত্র মক্বা শরীফে কাবা শরীফ সমগ্র পৃথীবির হেদায়েতের কেন্দ্রবিন্দু তেমনি এক এক মহল্লায়, এক এক গ্রামে- শহরে মসজিদও হেদায়েতের কেন্দ্রবিন্দু। সেই মসজিদ পবিত্র, বিশ্বস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মুসলিম সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক দলগত পার্থক্য, মতবিরোধ থাকলেও সেই মুসলিম সমাজের মধ্যে আল্লাহর পবিত্র ঘড় মসজিদ নিয়ে কোন মতোবিরোধ থাকে না। সবাই একসঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সর্বশক্তিমানের কাছে মাথা নতকরে সেজদা করে। তাই মুসলিম সমাজের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে, শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে সমাজের বৃহত্তর মানচিত্রে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মসজিদ কমিটিগুলিকে অগ্রনী ভূমিকা নিতে হবে।