জো বাইডেন: আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া সেরা সিদ্ধান্ত

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা আমেরিকার ‘সেরা সিদ্ধান্ত’ বলে জানালেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই সিদ্ধান্তের দায় তিনি নিজেই নিচ্ছেন বলেও জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাইডেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, এটা নির্ভুল, বিচক্ষণ এবং সেরা সিদ্ধান্ত। আমেরিকানদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যুদ্ধ শেষ করব। তাকে সম্মান করেছি। এই যুদ্ধটা অনন্তকাল চালিয়ে যেতে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। এই সিদ্ধান্তের (সেনা সরানোর) দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। কেউ কেউ বলবেন এটা আরও আগে শুরু হওয়া উচিত ছিল। তাতে অবশ্য আমি একমত নই।’’

সাধারণ নাগরিক, সামরিক বাহিনীর কর্তা, উপদেষ্টা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা কম্যান্ডারদের সর্বসম্মতির ভিত্তিতেই সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা বলে জানান প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যে আমেরিকানরা আফগানিস্তান ছাড়তে চেয়েছিলেন, তাঁদের ৯০ শতাংশকেই সরিয়ে আনা গিয়েছে।

এখনও দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক আফগানদের দিকে তাঁরা সহযোগিতার হাতই বাড়িয়ে দেবেন। বাইডেন জানিয়েছেন, সেনা সরানো হলেও আফগানিস্তান এবং অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াই চলবে। আইএস-কে জঙ্গিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তোমাদের শিক্ষা দেওয়া এখনও শেষ হয়নি। আমেরিকা ভুলবেও না, ক্ষমাও করবে না।”

তোপ দেগেছেন ট্রাম্প

তবে এ ভাবে হুড়োহুড়ি করে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করায় বাইডেন প্রশাসনকে অবশ্য বিঁধতে ছাড়েননি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘বিশ্বের ইতিহাসে এত খারাপ ভাবে কোনো যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার আমি দেখিনি।’’

আমেরিকান সেনার ফেলে আসা হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া গাড়ি ও অস্ত্রশস্ত্র অবিলম্বে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রয়োজনে ওগুলো ধ্বংস করে দিক বাইডেন প্রশাসন।’’

আমেরিকান সেনা আফগানিস্তান ছাড়লেও বাহিনীর একটা বড়ো অংশ এখন পাকিস্তানে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সে দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ় মুশারফ নেটো বাহিনীকে সে দেশে ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দিয়েছিলেন। ইমরান খানের সরকারও সে পথে হাঁটছে বলে হইচই শুরু করেছে কট্টরপন্থী বিরোধী দলগুলি।