সি. সুব্রামনিয়াম পুরস্কার পেলেন বীরভূমের সমাজসেবী সেখ রিয়াজুদ্দিন

 

     

     

    নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম:

    নিঃস্বার্থ সমাজসেবা এবং তৃণমূল স্তরে মানুষের উন্নয়নের জন্য বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সমাজসেবী সাংবাদিক তথা সংস্কৃতিপ্রেমী সেখ রিয়াজুদ্দিন। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া (NFI) এর তরফে ২০২৫-২৬ বর্ষের মর্যাদাপূর্ণ ‘সি. সুব্রামনিয়াম পুরস্কার’ (C. Subramaniam Award)-এ ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে। সারাদেশে ১৫ জনকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র সেখ রিয়াজদ্দিনকেই এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।

    মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাকে এই সম্মানের মাধ্যমে কুর্নিশ জানানো হল।

    নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এসকে রিয়াজুদ্দিনের সমাজসেবার পথচলা শুরু হয় অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। বীরভূমের এক প্রত্যন্ত গ্রামে একটি স্কুল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলে তিনি গ্রামের মানুষকে একত্রিত করেন। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়ে এবং গ্রামবাসীর শ্রম ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানে স্কুলটি পুনরায় গড়ে তোলেন। এই ঘটনাটিই এলাকায় তাঁর নেতৃত্ব ও জনসেবামূলক কাজের ভিত্তি স্থাপন করে।

    এছাড়া রিয়াজুদ্দিনের সবথেকে বড় সাফল্য এসেছে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা এবং পিছিয়ে পড়া আদিবাসী গ্রামগুলোতে যখন সরকারি টিকাকরণ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রবল অনাস্থা ও কু-সংস্কার ছিল, তখন তিনি এগিয়ে আসেন। তিনি স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে মানুষের ভয় দূর করেন। তাঁর এই মধ্যস্থতার ফলেই সেই সব এলাকায় টিকাকরণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলি সফল হয়।

    কেবল স্বাস্থ্যই নয়, শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষাতেও রিয়াজুদ্দিন সমান সক্রিয়। তিনি বর্তমানে স্কুলগুলোতে ‘নিউট্রিশন গার্ডেন’ বা পুষ্টি বাগান তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন। এর ফলে মিড-ডে মিলের জন্য টাটকা সবজি যেমন মিলছে, তেমনই শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও শ্রমের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া পথনাটিকা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    “তাঁর কাজ কেবল পরিষেবা প্রদান নয়, বরং বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা ভারতীয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধের আদর্শকে প্রতিফলিত করে।”

    বর্তমানে এই সম্মাননা পাওয়ায় খুশি বীরভূমের সাধারণ মানুষ ও তাঁর সহকর্মীরা। রিয়াজুদ্দিন মনে করেন, এই পুরস্কার তাঁর একার নয়, বরং সেই সমস্ত মানুষের যাঁরা প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর পাশে থেকেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্যকে সফল করতে এগিয়ে এসেছেন।

     

    নতুন গতি

    News Publication