বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্ধমানে পার্থেনিয়াম নিধন কর্মসূচি।

লুতুব আলি, বর্ধমান, নতুন গতি : ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে। প্রকৃতিপ্রেমী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সমাজ সচেতন মনস্করা পরিবেশকে সুস্থ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছেন। বর্ধমানের অগ্রগণ্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এদিন বর্ধমান শহরের উদয়চাঁদ জেলা গ্রন্থাগার, বিবেকানন্দ কলেজ মোড়, জিলিপি বাগান সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় পার্থেনিয়াম নিধন কর্মসূচি করল। নেতৃত্ব দেন সংস্থার পুরোধা প্রলয় মজুমদার ও তাঁর ছাত্র ছাত্রীরা। বছরের বিভিন্ন সময়ে এই সংস্থা বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ করে থাকে কিন্তু এবারে উঠে এলো এক ভিন্ন চিত্র। জনবসতি চারপাশে, খেলার মাঠে আবার পার্কে পার্থেনিয়ামের বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন সমস্যা এবং এই পার্থেনিয়াম ভক্ষণ করে গবাদিপশুদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় পড়তে দেখা যায় এর জন্য মূলত দায়ী পার্থেনিয়াম এর মধ্যে থাকা পার্থেনিন, হিস্টিরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ গুলি। পার্থেনিয়ামের বৃদ্ধিতে জমির উর্বরতা ৯০% হ্রাস পায়। এই ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে এই সংস্থা পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করলেন পার্থেনিয়াম নিধনের কাজ। পথ চলতি মানুষদের সচেতন করতে বিলি করা হয় লিফলেট। সংস্থার সম্পাদক প্রলয় মজুমদার জানান, বাড়িতে থাকা খাদ্য লবণ ১০ লিটার জলে এক কেজি খাদ্য লবণ জলের মধ্যে ভুলে এই পার্থেনিয়াম এর উপর প্রয়োগ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আগাছা নির্মূল করা যায়। লবণ জলের প্রয়োগের পাশাপাশি থাকা অন্যান্য গাছ এবং ঘাসের কোনরকম ক্ষতি হয় না। এই গাছ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা অনেক বেশি বিপদজনক। ফুলের রেনুর মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে তোলে যার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সংস্থার মিডিয়া অফিসার অঙ্কিতা সাম বলেন, পার্থেনিয়াম বিষাক্ত গাছ আমাদের চারপাশে থাকে তা অনেকেরই এখনো অজানা। এই বিষাক্ত পার্থেনিয়াম নির্মূল করতে তৃণমূল স্তর থেকে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সদস্য সুদীপ মন্ডল, দ্যুতি কোনার, মনীষা মন্ডল, ইতি পোড়েল, কোয়েল মালিক প্রমুখ।