রাজ্যের কৃতি পড়ুয়াদের সম্বর্ধনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ৬০ শতাংশ নম্বর পেলেই বিবেকানন্দ স্কলারশিপ

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: আর ৭৫ শতাংশ নয়, এবার থেকে ৬০ শতাংশ নম্বর পেলেই ছাত্র-ছাত্রীরা পাবেন বিবেকানন্দ স্কলারশিপ। আজ রাজ্যের কৃতি পড়ুয়াদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে ছাত্রদের উৎসাহ দিতে প্রত্যেক কৃতি ছাত্র ও ছাত্রীকে দেওয়া হল ল্যাপটপ ও একগুচ্ছ বই। ছাত্ররাই যে রাজ্যের ভবিষ্যৎ এদিন তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে সে কথাই বার বার শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। একইসঙ্গে উঠলো স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রসঙ্গও।

এদিন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রতিটি জেলার উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ স্থানাধিকারী ছাত্র-ছাত্রীরা। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, জয়েন্ট এন্ট্রান্স ও মাদ্রাসা বোর্ডের কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের এদিন পরীক্ষায় নজিরবিহীন সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে সকলকে আগামী দিনে আরও ভালো ফল করে পড়াশোনায় রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য উৎসাহিত করেন মমতা।

ছাত্র-ছাত্রীদের মুখ্যমন্ত্রী জানান এবার থেকে বিবেকানন্দ স্কলারশিপের আওতায় বৃত্তি পাবেন আরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী। এছাড়াও সংখ্যালঘুদের জন্য থাকছে ঐক্যশ্রী। তফসিলি জাতি উপজাতির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য থাকছে শিক্ষাশ্রী। মেদিনীপুর, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদীয়া এক এক করে সব জেলার ছাত্রদের সঙ্গেই এদিন কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, পড়ুয়ারাই রাজ্যের গর্ব। আরও নতুন দিশা দেখাক ছাত্ররা। মনে করিয়ে দেন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড চালু করা হয়েছে পড়ুয়াদের সুবিধার্থে। এই ধরণের সরকারি সুবিধা যেন ভোগ করতে পারেন ছাত্র ছাত্রীরা।

মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম ১০ তম স্থান পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বরাবরই সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারেও সেই সংবর্ধনার রীতি বজায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন জেলার কৃতি ছাত্র ছাত্রীরা জেলাশাসকের অফিস ও এসডিও অফিসে হাজির ছিলেন। এদিন তাঁদের ভার্চুয়ালি সংবর্ধনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, করোনা আবহে এবছর মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না হলেও জয়েন্ট পরীক্ষা হয়েছে। এক এক করে প্রকাশিত হয়েছে ফল। মাধ্যমিকে একবার একশো শতাংশ পাশের নজির গড়েছে ছাত্র ছাত্রীরা। উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথমে ৯৭ শতাংশ পাশ করলেও পরবর্তীকালে করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সকরকারের মধ্যস্থতায় সকলকেই পাশ করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এরপরেই প্রকাশিত হয় রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল। পরীক্ষার ২০ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ সেখানেও ৯৯ শতাংশ পাশ করেছে। প্রথম হয়েছেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের পাঞ্জজন্য দে। দ্বিতীয় বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সৌম্যজিত দত্ত। এবং তৃতীয় ব্রতীন মণ্ডল শান্তিপুর মিউনিসিপাল স্কুলের ছাত্র বলে জানিয়েছেন জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের সভাপতি।