পান্ডুয়ার খন্যানে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২দিনের মধ্যে হুগলিতে ২ তৃণমূল নেতার রহস্যমৃত্যু (Suspesious Death)। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। প্রথমে অন্ডালের পর এবার পান্ডুয়ার খন্যানে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ছেলের জন্মদিনেই হুগলির খন্যানে তৃণমূলের (TMC) অঞ্চল কার্যকরী সভাপতি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৩৫) রহস্যমৃত্যু। স্থানীয় এক ওষুধ দোকানের পিছনে ডাক্তারের চেম্বার থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতা কি আত্মঘাতী হয়েছেন ? আত্মহননের পথ বেছে নিলে তার কারণ কী? নাকি মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কথা বলা হচ্ছে মৃত নেতার পরিবারের সঙ্গে। ধারের টাকা ফেরত না পেয়েই আত্মঘাতী, অনুমান স্থানীয়দের। যদিও মৃতদেহের কাছ থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যার রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হচ্ছে পুলিশের তরফে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিকাল চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে দোকানে গিয়ে পৌঁছন তৃণমূল নেতা। দোকানের কর্মচারী বঙ্কিম ঘোষ জানান, বিকাল পাঁচটার সময় তিনি দোকান খুলে দুজনকে ওষুধ দেন। অন্যদিন বাইক নিয়ে তৃণমূল নেতা যে সময় চলে আসে। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরও তাঁকে দেখতে না পেয়ে পাশের দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করেন রাজীব এসেছে কি না। তিনি জানান, অনেক আগেই তো দোকানে ঢুকতে দেখেন তাঁকে। এরপর দোকানের পিছনের ঘরে দেখা যায় অর্ধেক শাটার খোলা। ভিতর থেকে আলো জ্বলছে। ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় তৃণমূল নেতা সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন।

 

শোকের ছায়া এলাকায়

 

তৃণমূল কংগ্রেসের পান্ডুয়া ব্লক সভাপতি অসিত চট্টোপাধ্যায় ঘটনার খবর পেয়ে খন্যানে পৌঁছে যান। তিনি বলেন,দীর্ঘদিন ধরে দল করেছে রাজীব। ইটাচুনা খন্যান অঞ্চলের কার্যকরী সভাপতি ছিল। পাশাপাশি ওই এলাকার একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও ছিল। অপর এক স্থানীয় তৃণমূল কর্মী জানান, ওষুধের দোকান চালাতে গিয়ে অনেক টাকা ধার দিয়েছিল। গ্রামের গরিব মানুষরা এলে ফেরাত না। অল্প অল্প করে অনেকগুলো টাকা দেনা হয়ে যায় ব্যবসায়।সেই টাকা আর আদায় করতে পারছিল না। যার জন্য একটা অবসাদ ছিল। রাজীবের নয় বছরের একটি ছেলে আছে। ছেলেটার আজই জন্মদিন ছিল। আর আজকের দিনেই সব শেষ।