দুবরাজপুরে গৃহবধূকে নৃশংস খুন, উত্তেজনা এলাকায়

 

     

    খান আরশাদ, বীরভূম:

    দুবরাজপুরের ইসলামপুর এলাকায় এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়। মৃতার নাম চায়না গড়াই (৪২)। দুষ্কৃতীরা তাঁর চোখ উপড়ে, গলা কেটে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতে একা ছিলেন চায়না দেবী। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা ঘরে ঢুকে তাঁকে আক্রমণ করে। আলমারি ভেঙে ঘর তছনছ করা হয়। সোনা-দানা ও নগদ অর্থ লুট করে আততায়ীরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ মোটর গ্যারেজের মালিক স্বামী গৌতম গড়াই বাড়ি ফিরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীর দেহ দেখতে পান। প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে দুবরাজপুর থানার ওসি মনোজ সিং, সিআই দেবাশীষ হালদার এবং ডেপুটি পুলিশ সুপার কুনাল মুখোপাধ্যায় বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরিবার ও প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশ কুকুর আনার দাবি জানান।

    বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব বর্ধমান পুলিশ লাইনের কুকুর “টিনা”কে ঘটনাস্থলে আনা হয়। তবে তদন্তে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। একসময় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় এভাবে বাড়িতে ঢুকে খুনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ড্রাগ, জাল লটারি ও জুয়ার মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় দুষ্কৃতীদের দাপট বাড়ছে বলেও দাবি তাঁদের।

    পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    নতুন গতি

    News Publication