ঝেঁতলা ঐক্য সম্ম্মিলনী পূজা এবার পা দিলো রজত জয়ন্তী বর্ষে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশপুর : পশ্চিম জেলার কেশপুর ব্লকের ঝেঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঐক্য সম্মিলনী পরিচালিত ঝেঁতলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার পা দিয়েছে রজত জয়ন্তী বর্ষে।২৫ বছরের এই পূজা বেশ ধূমধামে সঙ্গে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাঁশের তৈরি নানা সামগ্রী দিয়ে একটি অসাধারণ মন্ডপ সজ্জা তৈরি করেছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমা সাবেকী ধাঁচের হলেও আপনার নজর কাড়বে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চমীর রাতে অন্যান্য অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতা কেটে পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মহারাজ স্বামী মায়াধীশনন্দ।এই উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারক পত্রিকা “প্রয়াস” এর মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক নলিনী বেরা। এদিন পূজার রজত জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষ্যে সঙ্গীত শিল্পী প্রলয় বিশ্বাসের কথা ,সুর ও কন্ঠে একটি থিম সঙ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জননেতা ভাস্কর চৌধুরী, উৎসব কমিটির সম্পাদক মানস চৌধুরী,কবি প্রধান শিক্ষক ড.প্রসূন কুমার পড়িয়া, প্রধান শিক্ষক নারায়ণ প্রসাদ চৌধুরী, শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া, সঙ্গীত শিল্পী বিভাস ভট্টাচার্য, অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেতার শিল্পী বৃষ্টি মুখার্জী ও শিক্ষক স্নেহাশিস চৌধুরী। অন্যদিকে রজত জয়ন্তী উৎসবের

গর্বের মুহুর্তকে উজ্জ্বল করে তুলতে পঞ্চমী তিথির সকালে একটি রক্তদান শিবির আয়োজন করা হয়।
শিবিরে ১১ জন মহিলা সহ মোট ৭০ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেন। এর মধ্যে ১১ জন প্রথমবার রক্তদান করেন ‌
রক্তদান শিবির উদ্বোধন করেন কেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জনি কুমার তেওয়ারি।
শিবিরের প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা ব্লাড ডোনার্স ফোরামের চেয়ারম্যান অসীম ধর।
উপস্থিত ছিলেন রক্তদান আন্দোলনের কর্মী ফাকরুদ্দিন মল্লিক, শিক্ষিকা সমাজকর্মী সুতপা বসু , ঝেঁতলা শশীভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ প্রসাদ চৌধুরী, স্থানীয় চিকিৎসক ডা. সুভাষ চন্দ্র দাস, স্থানীয় জননেতা ভাস্কর চৌধুরী,পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুশান্ত বরম প্রমুখ।

উৎসব কমিটির পক্ষে সম্পাদক মানস কুমার চৌধুরী জানান যে,” রজতজয়ন্তী বর্ষে দেবী দুর্গার আবাহনের প্রাক্কালে আর্তের পাশে থাকার বাসনায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন। যেভাবে রক্তদাতাগণ সাড়া দিয়েছেন তাতে আমরা গর্বিত। আগামী দিনে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য রক্তদান শিবির আয়োজন করা হবে।”গর্বের এই মুহুর্তের সাক্ষী থাকতে মানুষের ঢল নামে রক্তদান শিবির অঙ্গনে। উৎসব কমিটির সভাপতি সমীর দন্ডপাট বলেন, তাঁদের এই গর্বের পূজা গোটা এলাকা বাসীর পূজা।তাই আপামর জনসাধারণের কথা ভেবে তাঁরা কীর্তন গান, বাউলগান,যাত্রাপালা,বাংলা গান,ম্যাজিক, বারোয়ারি সহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি মাধ্যমে তাঁরা উৎসবের দিন লিপি সাজিয়েছেন। পাশাপাশি উৎসবের অঙ্গ হিসেবে থাকছে বস্ত্র বিতরণ, পুস্তক বিতরণ , চারাগাছ বিতরণ সহ নানা কর্মসূচি।