কৃষক আন্দোলন: কর্ণালে কৃষকদের ওপর লাঠিচার্জ, নিন্দা কংগ্রেসের

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভরত কৃষকদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হরিয়ানায়। শনিবার হরিয়ানা পুলিশ কর্ণালের ঘরাউন্ডা টোল প্লাজায় লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের উপর। এরপর আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিল কৃষক সংগঠনগুলি। কৃষক সংগঠনের সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা বা এসকেএম হরিয়ানাজুড়ে সমস্ত মহাসড়ক এবং টোল প্লাজা অবরোধ করার ডাক দিয়েছে।

হরিয়ানা পুলিশ মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ

এসকেএম-এর দর্শন পাল বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সত্ত্বেও, কৃষকদের উপর নির্মমভাবে হামলা ও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। শত শত কৃষককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।” ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করে তিনি তাঁদের মুক্তি দাবি করেন। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের হরিয়ানার প্রধান গুরনাম সিং চধুনি কৃষকদের কাছে আবেদন করেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে হরিয়ানা পুলিশ মুক্তি না দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ চালিয়ে যান।” এসকেএমের পক্ষ থেকে শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত হরিয়ানার মহাসড়ক অবরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বিক্ষোভকারীদের।

কৃষকদের প্রতিবাদ কেন?

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর শনিবার তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকা কর্ণালে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কৃষকরা তাঁর সফরের প্রতিবাদ করতে এলাকায় জমায়েত করেছিলেন। তখনই তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন কৃষক আহত হয়েছেন। এসকেএমের দর্শন পাল বলেন, “এখন যদি কোন প্রতিবাদী কৃষকের কিছু হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।”

লাঠি-চার্জের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী রাস্তা অবরুদ্ধ

পাঁচকুলার কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরজপুর টোল প্লাজা বিক্ষোভকারীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যানবাহন অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় কর্ণাল সড়কে যান চলাচল আবার শুরু হয়েছে। তবে পরবর্তী পরিস্থিতিতে আন্দোলন কোন দিগনির্দেশিকা পায়, তার উপর নির্ভর করবে সমস্ত বিষয়টিই।

ম্যাজিস্ট্রেটের বরখাস্ত দাবি এসকেএমের পক্ষ থেকে

সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা এই ঘটনায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। যেখানে সংগঠনটি অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি করেছে মহকুমাশাসক ম্যাজিস্ট্রেট আয়ুশ সিনহা। শনিবার কর্ণালে পুলিশকে “বিক্ষোভকারীদের মাথা ভাঙার” নির্দেশ দেওয়া হয়। বিবৃতি অনুসারে, এই আদেশের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

বর্বর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ চলবে

এসকেএমের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি জালিয়ানওয়ালাবাগে ভার্চুয়াল ব়্যালি করছিলেন, তার থেকেও কর্ণাল-এর ঘটনা দ্বিগুণ লজ্জাজনক। খট্টর-চৈতলা সরকারকে সতর্ক করেছে এসকেএম জানিয়েছে, কৃষকরা কিছুতেই পিছু হটবে না এবং জনবিরোধী সরকারের এমন বর্বর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ চলবে।

কংগ্রেসের নিন্দায় পুলিশ লাঠি-চার্জ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইটারে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি হিন্দিতে লেখেন- “আবারও, কৃষকদের রক্ত ঝরানো হয়েছে, যা লজ্জাজনক ঘটনা।” কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালা ঘটনাটি সম্বন্ধে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, হরিয়ানায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার জেনারেল ডায়ারের মতো কৃষকদের সঙ্গে আচরণ করছে। তিনি লিখেছেন, ২০২০-র ২৫ শে নভেম্বর থেকে আজ অবধি দৈত্যের মতো মোদি এবং খট্টর সরকার ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছে কৃষকদের উপর এবং কৃষক-শ্রমিকদের রক্ত ঝরিয়ে চলেছে। কেউ মাথা নত করবেন না। আপনার কেউ সংকল্প ভঙ্গ করবেন না।”

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হরিয়ানা সরকারের নিন্দা করেন

কর্ণালে কৃষকদের উপর লাঠিচার্জের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং কঠোর সমালোচনা করেন প্রতিবেশী হরিয়ানা সরকারের। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন কৃষকরা। তাঁদের উপর এমন জঘন্য হামলা চালানোর জন্য অনেকেই আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।

ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেন, এটা স্পষ্ট যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন হরিয়ানা সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কঠোর কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলনের অবসান ঘটাতে হিংস্র বল প্রয়োগ করছে।” তিনি বলেন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং কৃষকদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

২৫ সেপ্টেম্বর ‘ভারত বন্ধ’ ডেকেছে মোর্চা

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেছেন, “কৃষকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে কৃষকবিরোধী আইনগুলি প্রত্যাহার করার পরিবর্তে, বিজেপি অবিরাম আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। ২০২০ সালে পাস হওয়া তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের প্রতিবাদে দিল্লি সীমান্তে এসে কৃষকদের আন্দোলন নয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। তারা তিনটি কৃষি আইন বাতিল এবং সব ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। সরকারের সঙ্গে দশ দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। কৃষক বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী যৌথ কিষাণ মোর্চা তাদের আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে ২৫ সেপ্টেম্বর ‘ভারত বন্ধ’ ডেকেছে।