মহঃ সাদাক্কাসঃ এক রাজনৈতিক অনুচ্ছেদ

 

    মহিউদ্দীন আহমেদ:

    আঠরো বছর বয়স হতেই জীবনে প্রথম ভোট দেন। এবং সেই সময় থেকেই সক্রীয় রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৭৮ সালে যখন বিধানসভা নির্বাচন হয় সেই নির্বাচনে বীরভূমের মুরারই কেন্দ্রে জয়প্রকাশ নায়য়ন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় লোকদলের প্রার্থী হন। যদিও ভোটে জিততে পারেন নি। এরপর লোকদল এর নাম পরিবর্তন হয়ে জনতা দল পরে আবার রাষ্ট্রবাদী জনতা দল দলের নামকরন হয়, আর বরাবরই তিনি সেই দলের সক্রীয় রাজনীতিতে ছিলেন জীবনভর। একাধিক লোকসভা, বিধানসভা ও ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা বরেছেন বারংবার। যদিও দলটির ব্যাপকতা এরাজ্যে না থাকায় তিনি জিততে পারেন নি বা প্রচারের আলোয় সেভাবে আসতেও পারেন নি। তবুও মানুষের হয়ে কাজ করার তাগিদে তিনি রাজনীতির আবহে থেকেছেন বরাবরই।

    ১৯৫৭ সালের পয়লা জানুয়ারী জন্ম হয় মহঃ সাদ্দাকাসের। বীরভূমের পাঁড়ুই থানার কেন্দ্রডাঙ্গাল গ্রামে জন্ম। জীবনের প্রথমাবস্থায় ডবলুবিএনভিএফ এর কর্মী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে মূখ্যমন্ত্রী জৌতি বসু সেই ডবলুবিএনভিএফ নামক পুলিশের এই বিভাগকে বন্ধ করে দিলে তিনি তার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলেন। সেই আন্দোলনের সুবাদে দিল্লী যাত্রাও করেন। এবং জনতা পার্টি র সৌজন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী আইকে গুজরাল, এইচডি দেবগৌরা, চন্দ্রশেখর নাইডু, মোরারজী দেশাই, ভিপি সিং
    দের সংস্পর্শে এসেছেন।

    ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল শান্তিনিকেতনে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্চায রাজীব গান্ধী। আর তিনি রাজীব গান্ধীকে কালো পাতাকা দেখান। মহঃ সাদ্দাকাসের কথায়, তখন দেশে অনাহার চলছে, দেশের মানুষ খেতে পেতো না, আর তিনি বলছেন দেশে কোনো অভাব নেই। তারই প্রতিবাদে রাজীব গান্ধীর মুখের উপর জবাব দেন, সরাসরি মঞ্চেও উঠে পড়েন। মহঃ সাদ্দাকাস ছাড়াও ছিলের আরও তিন সঙ্গী মার্জান মন্ডল , ভবোতরন মন্ডল, সুপ্রতীক বাগচী।

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করেন মহঃ সাদ্দাকাস সহ অন্য তিনজনকে। তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করাও হয় বলে তিনি স্মৃতিচারনা করতে গিয়ে একথা বলেন তিনি। তখন কংগ্রেস জামানা। বোলপুর আদালতে তার হয়ে কোন আইনজীবা সওয়াল করতে না দাড়ালে তিনি নিজেই নিজের হয়ে সওয়াল করেন।

    মহঃ সাদাক্কাস লোকদল, পরবর্তীতে জনতা পার্টির রাজ্য সাধারন সম্পাদক ছিলেন নব্বইয়ের দশকে। রাষ্ট্রবাদী জনতা পার্টির সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন ২০০৬-২০১৬ সাল পর্যন্ত। ১৯৮০ সালে ইয়ুথ ইন্ডিয়া নামের একটি যুব সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন। বোলপুর লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিদন্ধীতা করেছেন বারবার। যদিও তিনি জিততে পারেন না। জিততে না পারলরও দেশের বা রাজ্যের বৃহত্তম গনতান্ত্রিক উৎসবে সামিল হয়েছেন বারংবার।

    মহঃ সাদ্দাকাস এখনও সেভাবে সক্রীয় রাজনীতিতে না থাকলেও সমাজের কাজ কর্ম নিয়ে অবিচল থাকেন। এখনও তিনি সামাজিক কাজকর্মের মধ্যে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। বারংবার তার নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদে বাশ্বাসী থেকেছেন এবং বীরভূম জেলায় বা এ রাজ্যের রাষ্ট্রবাদী জনতা দলের সেরকম সংগঠন না থাকায় দল সেভাবে ভোটে জিততে পারে নি। একবার একটি পঞ্চায়েতে দুটি আসন পায়। দলের সাংগঠনিক শক্তি না থাকলেও পদ মর্যদা বা খ্যাতির লোভে তিনি অবশ্য দল বদল করে অন্য দলে চলে যান নি। মহঃ সাদ্দাকাসের কথায় পরের রাজবাড়ীর থেকে নিজের কুড়ে ঘড় অনেক ভালো। তিনি অবশ্য এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পছন্দ করেন। তার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ভালো উন্নয়ন করছেন। তিনি রাজনীতিতে একলাই চলেছেন। তবে ডান বাম সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তার সখ্যতাও ছিলো বরাবর। এখনও আছে। বর্তমান শাষকদলের নেতা বা কংগ্রেস সব দলের নেতারাই যোগাযোগ রাখেন তার সাথে।

    মানুষটি সেই কংগ্রেস জামানা থেকে বামফ্রন্টের চৌত্রিশ বছর পার করার পরও বর্তমান তৃনমূল কংগ্রেসে চৌদ্দ বছর সরকারে আছে। এই মানুষ সেই দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতিতেই আছেন। আর আগে জনতা দলের সর্বভারতীয় স্তরের নেতাদের কাছাকাছি থেকেছেন, দিল্লীতেও তার থাকার জায়গা রয়েছে বলে জানান। আঞ্চলিক ভাবে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে না পারলেও দেশের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তার বসবাস, উঠাবসা থেকেছে বরারবরই। এখনও ৭০ বছর বয়সে দৌড় ঝাপ করেন, হ্বজ করে আসার পর ধর্ম কর্ম নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেও গ্রামীণ এলাকায় সমাজসেবা করা তার একটা অভ্যাস। এখন সেবামূলক কাজ করেন। গায়ে রাজনীতির গন্ধ আজও আছে। তিনি বরাবরই করে গেছেন মানুষের উপকার। জীবনভর রাজনীতি করা মানুষটা আজ আমাদের একটা সাবজেক্ট। রাজনীতির অনুচ্ছেদ।