পর্নো শিল্প থেকে ধর্ষণ বেড়েছে!

পর্নো শিল্প থেকে ধর্ষণ বেড়েছে!

 

 

 

আজমীর রহমান : হ্যাঁ, পর্নো এখন একটি শিল্প। পর্নো মানুষের ভাল লাগে! হ্যাঁ, কারো ভালো লাগতেই পারে তাই সেটা ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাপার বা পছন্দের ব্যাপার। কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে অভিমত করা ঠিক নয়; তাই বলে কি খারাপ টাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেব না? এমন হয় নাকি! ভালোলাগাই কিন্তু ভালোবাসা হতে পারে না। আর যদি তা কারও ক্ষেত্রে ভালোবাসা হয়ে থাকে তাহলে পরোক্ষভাবে যদি তাকে কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে সে বিষ পানি ছাড়া কিছুই পাচ্ছেনা। এই পর্নো শিল্প সমাজকে যে ভাবে দূষিত করেছে, ঠিক সেই ভাবে, যেভাবে পানীয় জলের মধ্যে বিষ মেশালে উপর সেই পানিকে দেখলে বিষাক্ত মনে হয় না। কিন্তু বিশ্লেষণ করে দেখলে বোঝা যায় তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়েছে। ঠিক এইভাবে আমাদের সমাজকে বিষাক্ত করে চলেছে। আচ্ছা ভাবুন তো যে, এই বিষাক্ত শিল্পের কথায় আমাদের দায়িত্বটা? ভাবুন তো আপনি যে পর্নো চলমান দৃশ্যগুলি দেখে তৃপ্তি নিচ্ছেন সেগুলো তে কারো কান্না আছে নাকি? ভাবুনতো আপনাকে তৃপ্তি দেওয়ার জন্য তাঁরা সুধু অভিনয় করছে নাকি? ভাবুনতো তাঁদের কোথাও থেকে জোর করে তুলে এনে এই অভিনয় করানো হচ্ছে নাকি? বাংলায় যাকে বলে যৌন পাচার ইংরেজিতে সেক্স ট্রাফিকিং। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন) এর মতে বিশ্বের চুয়াল্লিশ মিলিয়নের বেশি মানুষ এখানে অনিচ্ছায় আটকে পড়ে আছে। আর তাঁরা আমাদের কারো জন্য এই অনিচ্ছাকৃত মিথ্যে অভিনয় করছে।

 

আপনার কি দায় বদ্ধতা পড়ে না এই শিল্পকে বন্ধ করতে? আমাদের মাঝে কিছু মানুষ এগুলো দেখছে বলেই এই শিল্প টিকে আছে। আপনি যদি এমনটা দেখে থাকেন তাহলে আপনিও যৌন পাচার ইংরেজিতে সেক্স ট্রাফিকিং এর সাথে জড়িয়ে।

 

এ-ত হলো শিল্প থেকে ব্যক্তিজীবন গুলির অভিমত। যদি এই মানুষগুলির সাংসারিক জীবন গুলোর অভিমত করতে হয় তাহলে এইটা কি সত্য নয় যে, প্রথমে একজন পুরুষ বা মহিলা পর্নো দৃশ্য গুলো একটু দেখলেই তাঁর যে অনুভব ছিলো এখন আর ওই একটু দেখলে তেমন অনুভব হয় না; এখন আস্তে আস্তে বেশি দেখতে হচ্ছে হয় তবেই সে সেই অনুভূতি পাচ্ছে। পর্নো দৃশ্য গুলো এক জন পুরুষ বা মহিলার অভিনীত দৃশ্য; তাই এই পর্নো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাথে যে বাস্তব জীবনের মিল ঘটবেনা তা আন্দাজ অনেকে করতে পারে না। দু’জন বিছানার সঙ্গী যেভাবে আপনাকে অভিনয় করে দেখাচ্ছে তা দেখে আপনি বিবাহিত জীবনে আপনার স্ত্রীর কাছে এমনটা কার্য আশা করবেন কিন্তু না আপনি তখন আপনার স্ত্রীর কাছে সেই কার্যটা পাবেন না। না পেয়ে আপনি মনঃক্ষুণ্ণ বা হতাশ হবেন। একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে অনুরোধ আশা করলে সেই মানুষটিও হতাশ হবে। কারণ তাঁদের মনে হবে ওই মোবাইল বা ল্যাপটপের চলমান পর্ন গুলো হয়তো স্বাভাবিক আমরা অস্বাভাবিক। তাই এখানেও একটা হতাশা ছাড়া কিছু পাবে না। তখন ঐ সংসারের মধ্যে একাধিক ঝামেলা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনাগুলি ঘটবে।

 

একটি উদাহরণঃ বিবাহ করে ফুলশয্যা রাতে বিছানায় স্বামী-স্ত্রী একসাথে বেশ ভালো কথা কিন্তু আরও একটু রাতে স্বামী স্ত্রীর কাছে মিলন করতে গিয়ে স্ত্রীর ওপর এমন ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাতে মনুষ্য সুলভ আচরণ তো নয় বরং রাক্ষুসে আচরণ। এর কারণ জানা যায় সেই ব্যক্তি পর্নো দেখে দেখে যা শিখেছে তাই করার চেষ্টা করেছে। ঠিক একইভাবে সমাজের কিছু মানুষ পর্নো আসক্তি এবং মাদকাশক্তির ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো অসামাজিক জঘন্য পাপাচার কাজগুলি অবিরত ঘটে চলেছে। তাই উক্ত বিষয় নিয়ে জন মানুষকে সচেতন করার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা উচিত। যেমন এইটাও একটি চতুর্থ মঞ্চ।