কৃষক পরিবারের রিজিয়ার স্বপ্ন শিক্ষিকা হওয়া

 

    সেখ মহম্মদ ইমরান, মেদিনীপুর : শিক্ষিকা হতে চায় M.S.D.U দোগাছিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার কৃতি ছাত্রী রিজিয়া। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের দোগাছিয়া গ্রামের রিজিয়া পারভীন ৫৩২ পেয়ে হাইমাদ্রাসা বোর্ডে ফাজিল পরীক্ষায় (উচ্চমাধ্যমিক) রাজ্যে নবম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রথম স্থান অধিকার করেছে । M.S.D.U দোগাছিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্রী রাজিয়া পারভীনের ফল দেখে খুশিতে চোখে জল তার আব্বা-আম্মিরও । তাঁদের কথায়, এখনও মনে হচ্ছে যে নামটা দেখলাম মেধাতালিকায় সেটা আমাদের মেয়েরই তো ? আব্বা সেখ আব্দুল রাজ্জাক পেশায় কৃষক, সকাল হলেই বেরিয়ে পড়েন কাজে। আম্মু তাহারা বেগম গৃহবধূ। দুই বোনের মধ্যে রিজিয়া ছোট। সংসারের হাল টানতে কাজ করেন আম্মি তাহারা বেগমও। আব্বা-আম্মির অবর্তমানে সংসার সামলানো, ঘরের কাজ সবই করে সে । তার মধ্যেই পড়াশোনা চলেছে জোরকদমে । বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়েই পরীক্ষায় বসে রিজিয়া । প্রতি বছরের মতো এবছরও ফল ভালো হবে এমন আশা করেছিল । পরিবারের সকলেও ভেবেছিলেন রেজ়াল্ট ভালোই হবে কিন্তু বই পাগল মেয়েই যে রাজ্য নবম স্থানাধিকারী হবে হাইমাদ্রাসায় তা কেউ ভাবতে পারেনি । রিজিয়ার ফল জানার পর এখন শুধু পরিবারই নয়, প্রতিবেশীরাও উচ্ছ্বসিত তাকে নিয়ে। রিজিয়ার ইচ্ছা বড় হয়ে শিক্ষিকা হওয়া।

    মাদ্রাসার ছাত্রী রিজিয়ার রেজাল্টে খুশি M.S.D.U দোগাছিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সেখ হাফিজুল রহমান সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ হাফিজুল রহমান জানান,তাঁরা আশা করেছিলেন তাঁদের এই ছাত্রী আরও একটু ভালো রেজাল্ট করবে, তবুও ওরা যেটা করেছে সেটা যথেষ্ট কৃতিত্বের এবং এতে ওঁরা যথেষ্ট খুশি।