সাইবার ক্রাইমের কবলে সর্বশান্ত হয়ে সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ সিউড়ির বাসিন্দা

নিজস্ব সংবাদদাতা : ইন্টারনেটে পাওয়া নম্বর মানেই সঠিক। এই ধারনা ভুলে যান৷ সিউড়ির সাইবার ক্রাইমের ঘটনা শুনলে আঁতকে যাবেন। ইন্টারনেটে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে গ্যাস কানেকশনের ডিলারশিপ নিতে গিয়ে ২৬ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন এক কেন্দ্রীয় জওয়ান। যদিও দীর্ঘ এক মাস ধরে তদন্ত নেমে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে ৩ জন প্রতারককে গ্রেফতার করে জেলা সাইবার ক্রাইম থানা।

    তবে এই সমস্ত বিষয় থেকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কীভাবে ঘটল এই জালিয়াতি? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্মিতে কর্মরত কীর্ণাহারের কালিপুরের শেখ সালাউদ্দিন বেশ কয়েক দফায় ২৬ লক্ষ টাকা প্রতারিত হয়েছিলেন। কয়েক মাস আগেই তিনি গ্যাসের ডিলারশিপ নেবেন বলে মনস্থির করেন । এরপর ইন্টারনেটে থাকা ডিলারশিপ প্রদানকারী এক এজেন্টের তিনি খোঁজ পান। সেই ভিত্তিতে তিনি ওই ফোন নম্বরের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।পরে বিভিন্ন আছিলায় দফায় দফায় তাঁর থেকে দু’মাসে ২৬লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়। শেষমেশ সর্বশান্ত হয়ে সাইবার থানার দারস্থ হন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস নয়ডা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, ওই প্রতারিত ব্যক্তি চাকরি জীবনের শেষ করার পর একটি গ্যাস কানেকশনের ডিলারশিপ নিতে মনস্থির করেছিলেন। এই কারণে ইন্টারনেটে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া কিছু এজেন্সির সন্ধান চালান। সেখানে কিছু তথ্য তিনি হাতে পান। সেখানে দেওয়া একটি এজেন্সির ফোন নম্বরের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ শুরু করেন।

    এরপর তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু নথি চাওয়া হয়। বিভিন্ন আছিলায় কখনও ‘এনওসি’ করিয়ে দেওয়া নামে কখনও ‘লাইসেন্স নম্বর’ করিয়ে দেওয়ার নামে ধাপে ধাপে টাকা চাওয়া শুরু হয়। তিনিও বিশ্বাস করে তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ৫ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত বেশ কয়েক ধাপে ২৬ লক্ষ ৪ হাজার ৫০০ টাকা তাদের পাঠান।এরপর প্রতারিত ব্যক্তিটি বাড়ি ফিরে দুর্গাপুরের ওই অফিসের ঠিকানায় যান। গিয়ে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে যান! দেখেন, তাঁকে দেওয়া সমস্ত তথ্যই আসলে জাল। এছাড়াও নিজেদের এজেন্ট দাবি করার জন্য যেসব নথি প্রথমে তারা পাঠিয়েছিলো সেগুলোও সমস্তই ভুয়ো। তখন প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন বলে অনুমান করা যায়। এরপর তিনি কার্যত সর্বশান্ত হয়ে সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন।

    নতুন গতি

    News Publication