“গুমনামি বাবাই নেতাজি” প্রধানমন্ত্রীকে নিরপেক্ষ তদন্তের আরজি বসু পরিবারের

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “গুমনামি বাবাই নেতাজি! তা জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক” নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সম্মিলিতভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দাদা শরৎচন্দ্র বসুর বড় ছেলে অশোকনাথ বসুর সন্তানরা।

চিঠিতে লেখা

“নেতাজি অন্তর্ধানের পর গুমনামি বাবা মানুষের মনে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। মানুষ বলতে শুরু করেছিলেন, গুমনামি বাবাই আসলে নেতাজি। কেন, তা খতিয়ে দেখা হল না। তিনি কে, কোথ থেকে এসেছেন, মানুষ যা বলছে, তা সত্যি কি না। মানুষ যে দাবি করেছিল, তা তো উড়িয়ে দেওয়া যায়নি। নেতাজি বিষয়ক গবেষক চন্দ্রচূড় ঘোষ, অনুজ ধর-রা যেমন প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছেন, তেমনই বিচারপতি মনোজ মুখোপাধ্যায়ও গুমনামি বাবা নেতাজি হতে পারেন বলে মত প্রকাশ করেছিলেন। তারপরও সরকার তা আমল দেয়নি।, তাই প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আর্জি বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখতে।

১৯৪৫ সালের আগস্টে তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনা তত্ত্ব সাধারণ মানুষও মানেন না। নেতাজির স্ত্রী এমিলি শেঙ্কল ও তাঁর দাদা শরৎচন্দ্র বসু, সুরেশচন্দ্র বসুও যুক্তিগ্রাহ্য নয় বলেই ওই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এমনকী তৎকালীন নামী আইনজীবী শরৎ বসু প্রধান প্রত্যক্ষদর্শীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। শেঙ্কল বিদেশের তথ্যও জোগাড় করেছিলেন।

নেতাজির ‘অবশেষ’ হিসাবে দেখিয়ে রেনকোজি মন্দিরের চিতাভস্ম দেশে আনার কোনও পদক্ষেপ করাই উচিত নয়। নিরপেক্ষ নজরদারি কমিটির সতর্ক তত্ত্বাবধানে আমেরিকা ও ইউরোপের নামী ল্যাবে অবশেষের বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা করানো যেতে পারে। মুখার্জি কমিশন সেই ভস্ম জাপানি সরকারি ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ টেস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এই বন্দিত দেশনায়কের অন্তর্ধান রহস্যের নিষ্পত্তিই তাঁর জন্মের ১২৫ বছর ও স্বাধীনতার ৭৫ বছরে দেশবাসীকে সেরা উপহার হতে পারে।”