৮৯ বছর বয়সে চির বিদায় নিলেন বীরভূমের হেতমপুরের মহারানী

 

     

     

     

    খান আরশাদ, বীরভূম:

    প্রয়াত হলেন বীরভূমের হেতমপুরের মহারানী। রাজ ঐতিহ্যের একটি যুগের অবসান ঘটল বীরভূমে। রবিবার সকালে প্রয়াত হন বীরভূমের হেতমপুরের প্রয়াত মহারাজা মাধবী রঞ্জন চক্রবর্তীর স্ত্রী মহারানী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। রেখে গেলেন তাঁর প্রাণাধিক দুই কন্যা রাজকুমারী বৈশাখী চক্রবর্তী ও রাজকুমারী অনুরাধা চক্রবর্তীকে।
    রাজকুমারী বৈশাখী চক্রবর্তী জানান, মা বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। রবিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহারানীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসে বীরভূমে। বীরভূমে বিভিন্ন সামাজিক কার্যকলাপে হেতমপুরের রাজবাড়ীর রাজা-মহারাজাদের অবদান অনস্বীকার্য। হেতমপুরের মহারাজারা তৎকালীন সময়ে প্রজাদের নিজ সন্তানের মতই আগলে রেখেছিলেন। প্রজাদের সুখ-দুঃখে শামিল থাকতেন মহারাজারা।
    স্কুল কলেজ দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে সে সময় নজির সৃষ্টি করেছিলেন হেতমপুরের মহারাজারা। দুর্ভিক্ষের সময়ও প্রজাদের অকাতরে তাঁরা দান করেছিলেন।
    হেতমপুরের মহারাজাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সর্বজনবিদিত। মহারানীর প্রয়াণে সেই মহান ঐতিহ্যের যেন একটা যুগের অবসান ঘটল। অবশ্য রাজকুমারী বৈশাখী চক্রবর্তী ও রাজকুমারী অনুরাধা চক্রবর্তী নিজেদের সেই রাজ-ঐতিহ্যকে কাঁধে বয়ে নিয়ে চলবেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, এটাই আশা এখানকার আবেগপ্রবণ রাজ-গুনগ্রাহী সাধারণ মানুষের।