টিঠিডাঙা পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি গ্রাম যেখানে রয়েছে দুটি জেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:- গ্রামের নাম টিঠিডাঙা। কথায় বলে, ভাগের মা গঙ্গা পায় না, এই প্রবাদটি ভীষণ ভাবে মিলে যায় এই গ্রামের ক্ষেত্রে। টিঠিডাঙা পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি গ্রাম, যেখানে রয়েছে দুটি জেলা। রয়েছে তিনটি বিধানসভা ক্ষেত্র। আর চারটি থানা। শুনে অবাক লাগছে তো? হ্যাঁ এটাই সত্যি।

বীরভূম জেলা ও মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যবর্তী সীমান্তে অবস্থিত টিঠিডাঙা। সীমানা বিন্যাসের জটিলতার কারণে আজও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই গ্রাম। মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম ও নবগ্রাম বিধানসভা এবং বীরভূম জেলার হাসন বিধানসভা ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত গ্রাম টিঠিডাঙ্গা। মুর্শিদাবাদের ঝিল্লি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে এই গ্রাম হলেও গ্রামে চারটি থানা রয়েছে। দুটি জেলা, তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের অদ্ভুত এই গ্রামে সীমানা বিন্যাসের জটিলতার কারণে গ্রামের মানুষকেও পড়তে হচ্ছে সমস্যায়। গ্রামের চারটি থানা হল বীরভূম জেলার মাড়গ্রাম ও নলহাটি, মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম ও নবগ্রাম।

বর্তমানে এই গ্রামের বাসিন্দারা সার্বিক ভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। গ্রামের বাসিন্দাদের কথায় গ্রামে কোনও উন্নয়ন নেই। এমনকী কোনও সমস্যা হলেও এক থানা থেকে অপর থানায় ঘোরাঘুরি করতে হয়। কিন্তু কোনও থানাই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে না। শুনতে চায় না অভাব অভিযোগ।অভিযোগ দায়ের করতে হলেও চলে চারটি থানার মধ্যে ঠেলাঠেলি। এমনকি দোকান বাজারের ক্ষেত্রেও অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গ্রামে দুটি স্কুল। সীমানার গণ্ডগোলে একটি মুর্শিদাবাদ জেলাতে আর একটি বীরভূম জেলাতে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন মুর্শিদাবাদ জেলাকে তিনটি জেলায় বিভক্ত করা হবে।

টিঠিডাঙা গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, মুর্শিদাবাদ জেলাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হলেও এই গ্রামের বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট বিধানসভা-সহ থানার অধীনে আনতে হবে। তাঁদের দাবি, এতগুলো থানা ও তিনটি বিধানসভা হওয়ার কারণে গ্রামের কোনও উন্নয়ন করা হয় না। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকতে হয় তাঁদের। রাস্তাঘাট, পানীয় জল থাকলেও তা অতি প্রাচীন। আধুনিক জীবনের ন্যুনতম সুবিধাযুক্ত করে তোলা হোক টিঠিডাঙাকে। গ্রামের বাসিন্দাদের আরও দাবি, আর দুই জেলা তিন বিধানসভা ক্ষেত্র না চারটি থানার মধ্যে ঘুরপাক নয়। নতুন জেলা ভাগের সাথে সাথে তাদের গ্রামেরও ঠিক মতো সীমানা বিন্যাস করা হোক। নির্দিষ্ট করা হোক একটি জেলা, একটি থানা ও একটি বিধানসভা ক্ষেত্র।