হরিশ্চন্দ্রপুর এ কৃতি দের বাড়ি গিয়ে সম্বর্ধনা বামেদের

মহম্মদ নাজিম আক্তার, নতুন গতি, হরিশ্চন্দ্রপুর: হরিশ্চন্দ্রপুর এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমি কৃতীদের সংবর্ধনা দিল বামপন্থী ছাত্র-যুবক কৃষক শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতী ছাত্রী হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের মহেন্দ্রপুর জিপির ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আজমেরি খাতুন এবছর তুলসীহাটা হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৭৯ নম্বর পেয়ে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আজমেরি আইন নিয়ে পড়তে চাই। সমাজ তথা দেশে অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের লাগাম দিতে ও গরিবদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই পেশাকে আকড়ে ধরতে চাই ।

অপরদিকে একই গ্রামের বাসিন্দা ভাই মাহামুদ রেজা মালদা জেলার কালিয়াচক-১ নং ব্লকের জয়নপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিকে ৬৫৯ ও বোন ফারাতুন নেশা উচ্চ মাধ্যমিকে মালদার কালিন্দি হাইস্কুল থেকে ৪০৪ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। দুই জনেই চিকিৎসক হতে চাই। গ্রামের অসহায় সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায় তাদের জন্য এই মানবিক পেশাকে বেঁছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাবা প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্যানসার রোগে মারা যায়। ক্যানসার রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করবেন বলে জানান।

অপর দিকে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চয়েতের দক্ষিল রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল হকের একমাত্র মেয়ে আয়েশা খাতুন হরিশ্চন্দ্রপুরের পিপলা হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৫০ নম্বর পেয়ে স্কুলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বাংলা অনার্স নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে চাই। শিক্ষিকা হওয়া স্বপ্ন ছোটো থেকেই মনের বাসনা রয়েছে। বাবা শারীরিক ভাবে অসুস্থ। কাজ করতে পারে না। বাড়িতে নিত্য অভাব। সরকারি সহযোগিতা পেলে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে বলে আশা।

শনিবার ওই তিন কৃতী শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা দেন বামেরা। সংবর্ধনা পেয়ে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এদিন এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএফআইয়ের ব্লক সেক্রেটারি কমরেড রনজিম আলি, ছাত্রনেতা আবেদ আলী, জেলার প্রাক্তন ছাত্র নেতা কমরেড আরজাউল হক, সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেড জমিল ফিরদৌস, কমরেড মোহাম্মদ আসলাম, কৃষক নেতা কমরেড মোহাম্মদ মালেক ও যুব নেতা কমরেড প্রবীণ কুমার দাস।

সংগঠনের সিটুর জেলা সহকারী সভাপতি আরজাউন হক জানান টাকার অভাবে যাতে কোনো মেধা নষ্ট না হয়ে যায় তাদের পাশে থেকে সবরকমের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।