কেন আপাতত বাতিল হলো ভারত-ইংল্যান্ড অন্তিম টেস্ট?

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় দলের সহকারী ফিজিও যোগেশ পারমারের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর বাকিদের সকলের আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। তাতেই উজ্জ্বল হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টারে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট শুরুর সম্ভাবনা। যদিও আজ ফের নাটকীয় পালাবদল। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর শেষ টেস্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সকাল থেকে পরিস্থিতিতে বদল
আজ সকাল থেকেই খবর আসতে থাকে যে, ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট পিছিয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে দীনেশ কার্তিক টুইট করে জানিয়ে দেন, আজ খেলা হচ্ছে না। কিন্তু টেস্ট যে বাতিল হচ্ছে তা তিনি জানাননি। যেটা জানানো হয় ইসিবি-র তরফে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট যেটি আজ শুরুর কথা ছিল তা বাতিল করা হয়েছে। ভারতীয় শিবিরে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। এতে ভারত দল নামানোর মতো পরিস্থিতিতে নেই। এই টেস্ট বাতিলের জন্য সমর্থক ও সহযোগীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ইসিবি জানিয়েছে, এর ফলে অনেকেই প্রচণ্ড হতাশ হবেন এবং অনেকেই নানা অসুবিধার সম্মুখীন হবেন। তবে পরে এই বিবৃতি থেকে ইসিবি forfeited শব্দটি প্রত্যাহার করায় জল্পনা চলছে ভারত আদৌ ইংল্যান্ডকে ওয়াকওভার দিয়েছে কিনা। কেন না, ওয়াকভার দিলে সিরিজ ২-২ হবে। নয়তো ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতবেন বিরাটরা। ভারত যেহেতু দল নামাতে পারেনি। সেক্ষেত্রে ইসিবি ম্যাচটিতে ওয়াকওভার চাইবে। যদিও বিষয়টি গড়াবে আইসিসি-র ডিসপুট রেজলিউশন কমিটিতে। ততক্ষণ অবধি ভারতকে ২৬ ও ইংল্যান্ডকে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
করোনা রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে
বুধবার অনুশীলনের পরই মৃদু করোনা উপসর্গ অনুভব করায় ভারতীয় দলের সহকারী ফিজিও যোগেশের করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছিল। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। যদিও ভারতীয় দলের বাকিদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে গতকাল রাতে জানা গিয়েছিল। তাতে মনে করা হচ্ছিল, টেস্ট আয়োজনে অসুবিধা হবে না। যদিও গতকাল ভারতীয় দলের সকলকেই টিম হোটেলে নিজেদের ঘরে থাকতে হয়েছিল। এমনকী দ্বিতীয় দফার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আজ সকালে আসার কথা। যেহেতু যোগেশ পারমার একমাত্র ফিজিও হিসেবে ম্যাঞ্চেস্টারে ছিলেন ফলে চেতেশ্বর পূজারা, রোহিত শর্মা, মহম্মদ শামি, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান্ত শর্মার মতো ক্রিকেটার যাঁদের হাল্কা চোট ছিল, তাঁরাও পারমারের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন স্বাভাবিকভাবেই।
শিবিরে করোনাতঙ্ক
তবে গতকাল রাত অবধি জানা গিয়েছিল ভারতীয় দল যে কোনও মূল্যে শেষ টেস্ট খেলতে চায় এবং ইংল্যান্ডকে ওয়াকওভার দিতে চায় না। কিন্তু ইসিবি-র বিবৃতিতে ভারতীয় শিবিরে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ভীতির যে কথা বলা হয়েছে তাতে আরও কোনও ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা নিয়েও জল্পনা চলছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের কয়েকজন একটি ঘরে গিয়ে বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন। শিবিরে করোনাতঙ্কে একাধিক ক্রিকেটার টেস্ট খেলার ব্যাপারে সম্মত ছিলেন না বলেও জানা যাচ্ছে। এরপর আজ স্থানীয় সময় সকালে পরিস্থিতি আরও বদলায়।
মোবাইলে ক্রিকেটারদের বার্তা
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রত্যেকের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় টেস্ট ম্যাচ হবে না। সকলকে ঘরে থাকতেই বলা হয়। এর মিনিট দশেক পর আরেকটি মেসেজ আছে। যাতে লেখা হয় প্রত্যেকের ঘরে ব্রেকফাস্ট পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কেউ চাইলে হোটেলে প্রাতরাশের যেখানে ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে যেতে পারেন। তবে এদিন সকালে যে করোনা রিপোর্ট আসার কথা সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।
আগেই আইপিএল অভিযানে

বিসিসিআইয়ের তরফে নাকি ক্রিকেটারদের বলা হয়েছে যাঁরা আইপিএল খেলতে যাবেন তাঁদের ১৫ তারিখের আগেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পাঠানো হতে পারে। তাই সকলেই যেন ব্যাগপত্র গুছিয়ে তৈরি থাকেন। এখন ফের কোনও ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হলে নিঃসন্দেহে সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খাবে। ভারতীয় শিবির তাই প্রার্থনা করছে আর যেন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা না বাড়ে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসি-র
এই টেস্ট বাতিলের ফলে সিরিজের কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুসারে করোনা পরিস্থিতিতে কোনও টেস্ট বাতিল বা পরিত্যক্ত ঘোষণা হতেই পারে। কিন্তু ইসিবি যে কোনও মূল্যে চাইছে যেহেতু ভারত দল নামাতে পারেনি তাই ওয়াকওভার দেওয়া হোক। তাহলে সিরিজ ২-২ হয়ে কোনওরকমে মুখরক্ষা করা যাবে। নাহলে বিরাট কোহলিদেরই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতার কথা। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রডের সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি।