| |
|---|
খান আরশাদ, বীরভূম:
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের গেরোয়। নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় তাঁর নামে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, বয়স সংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি নিয়ে খোদ তাঁর শান্তিনিকেতনের বাসভবন ‘প্রতীচী’তে গিয়ে শুনানির দিনও ধার্য করেছে কমিশন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ডেটাবেসে অমর্ত্য সেনের বয়সের সাথে তাঁর বাবা বা মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বলে ধরা পড়েছে, এমনটা জানা গিয়েছে। কমিশনের সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি চিহ্নিত হওয়ায় এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। মূলত বাংলা ও ইংরেজির সংখ্যাগত বিভ্রাটের (যেমন ৪ এবং ৮-এর মধ্যে পার্থক্য) কারণেই এই ভুল হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নোটিশে বলা হয়েছে, অভিভাবকের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া সাধারণত প্রত্যাশিত নয়, তাই নথিপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
শুনানি ও নথিপত্র
বুধবার সকালে বীরভূমের বিএলও (BLO) এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা ‘প্রতীচী’তে হাজির হন। আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় অমর্ত্য সেনের বাড়িতেই এই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। যদিও অমর্ত্য সেন বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন, তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর মামাতো ভাই শান্তভানু সেন ও প্রতীচী দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছেন। জানা গিয়েছে, অমর্ত্য সেনের জন্ম ১৯৩৩ সালে এবং তাঁর মা অমিতা সেনের জন্ম ১৯১৪ সালে। অর্থাৎ বাস্তবে বয়সের ব্যবধান প্রায় সাড়ে উনিশ বছর। তথ্যের এই নির্ভুলতা থাকা সত্ত্বেও কেন নোটিশ পাঠানো হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্থানীয় নেতারা এই ঘটনাকে নোবেলজয়ীর প্রতি ‘অপমান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সফটওয়্যারের দোহাই দিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এভাবে হেনস্থা করা মোটেও ঠিক নয়। বিজেপি অবশ্য একে একটি পদ্ধতিগত বিষয় হিসেবেই দেখছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি সফটওয়্যারের যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া আর কিছুই নয়। চাপে পড়ে কমিশনও জানিয়েছে, অমর্ত্য সেনকে সশরীরে হাজির হতে হবে না, ভোটার তালিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরাই তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভুল সংশোধন করে আসবেন। তবে দেশবিদেশের বরেণ্য একজন ব্যক্তিত্বের কাছে নির্বাচন কমিশনের এমন নোটিশ পৌঁছানোয় ক্ষুব্ধ অমর্ত্য-অনুরাগীরা।
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শ্যামসুন্দর মন্ডল এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জানিয়েছেন এর আগে কংগ্রেস আমলে এবং বাম আমলে এসআইআর হয়েছে। সে সময় কেন অমর্ত্য সেনের বাবার মায়ের নাম ঠিকঠাক নথিভুক্ত করা হয়নি? তাহলে নিশ্চয়ই বাম এবং কংগ্রেস আমলে ত্রুটিমুক্ত এস আই আর হয়নি। তাছাড়া যখন কেউ জানলো না নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের নামে নোটিশ আসবে, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে বুঝতে পারলেন। আসলে রাজ্য সরকারই আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে অমর্ত্য সেনকে নোটিশ জারি করিয়েছে, বলে অভিযোগ বিজেপি জেলা সহ-সভাপতির।


