রবীন্দ্র নজরুল সাহিত্য একাডেমীর ঋত্বিক ঘটক শতবার্ষিকী স্মরণে অনুষ্ঠান কলকাতায়

আসাদ আলী, রাজারহাট,নতুন গতিঃ ২২শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সোমবার দুপুর দুটো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রবীন্দ্র নজরুল সাহিত্য একাডেমীর আহ্বান ও আয়োজনে এবং কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হলে সহ-সম্পাদিকা সুজাতা ঘোষের দক্ষ সঞ্চালনায় এবং সম্পাদক সোমনাথ ঘোষ মহাশয়ের সার্বিক পরিচালনায় দূর দূরান্ত থেকে আগত কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও শিল্পী গনের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারতের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক শতবার্ষিকী স্মরণে অনুষ্ঠানটি সুসম্পন্ন হয়। মৌসুমী সরকারের উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। প্রধান অতিথি সহ বিশিষ্ট সমস্ত অতিথিকেই ব্যাজ উত্তরীয় মেমেন্টো সার্টিফিকেট ও মিষ্টি দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এছাড়াও সমস্ত শিল্পীকেই সুদৃশ্য মেমেন্টো ও সার্টিফিকেট এবং ‘সেরার সেরা’ দের জন্য আলাদাভাবে মেমেন্টো দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। উদ্বোধনী ভাষণে সম্পাদক সোমনাথ ঘোষ মহাশয় এই সংস্থার ইতিহাস ও কার্যপ্রণালী ও ঋত্বিক ঘটক সম্পর্কে সুন্দর বক্তব্য রাখেন। অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি এস আই আর এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান। সংগঠনের সভাপতি কবি সাংবাদিক ও চিকিৎসক আসাদ আলী মহাশয় তার স্বভাবসুলভ কণ্ঠে মনে করিয়ে দেন চিরকাল সত্যের জয় যদিও তা সহজে আসে না, তা বলে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই । যখনই যেখানে মানুষ শোষিত অত্যাচারিত সেখান থেকেই উঠে এসেছে শক্ত শিরদাঁড়া এবং মাথা উঁচু রাখা প্রতিবাদী মানুষ। যেমন নেলসন ম্যান্ডেলা। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসু, বিনয় বাদল দিনেশ, ক্ষুদিরাম বসু, এবং এখন আন্তর্জাতিক স্তরে ইয়ং জেনারেশনের আইডল ইব্রাহিম ট্রাওরে। তিনি আমেরিকার মত বৃহৎ শক্তির ছোট্ট ভিয়েতনামের কাছে লেজে গোবরে হয়ে হেরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট থ্রিলার লেখক মানসী রায় চট্টোপাধ্যায় । সম্প্রীতির উপর তাঁর বক্তব্য বর্তমান সময়ে এক দিক দিশারী হয়ে থাকবে। বিশিষ্ট অতিথিরা ছিলেন কবি সাংবাদিক ও চিকিৎসক আসাদ আলী। বিশিষ্ট শ্রুতি নাট্যকার সুজাতা ঘোষ, বিশিষ্ট কথাকার হুমায়ুন রানা, কবি কৌশিক গাঙ্গুলী, এন সি সি হোমিওপ্যাথি কলেজের বিভাগীয় প্রধান এবং অল বেঙ্গল হোমিওপ্যাথি মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চিকিৎসক কে এ মোহিত । এন সি সি হোমিওপ্যাথি কলেজের আর এক বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক মনোরঞ্জন দেয়াশী। ছিলেন ডাক্তার হাসান মির্জা, ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সম্পাদক ডাঃ এন হক্ । ছিলেন ডাক্তার সাবিনা ইয়াসমিন (রোজলিন)। ডাক্তার এ কে মোহিত তাঁর অসাধারণ বক্তব্যে লেখক এবং সাধারন মানুষকে সচেতন করে বলেন যে, বাংলা এবং বাঙ্গালীদের বিভিন্ন কৌশলে তাঁদের আলোকোজ্জ্বল ভূমিকা, তাঁদের ইতিহাস অন্ধকারে ঢেকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে সে বিষয়ে সচেতন থাকার। এই অনুষ্ঠানে যাঁরা অসাধারণ উপস্থাপনার জন্য ‘সেরার সেরা’ হয়েছেন- কবিতায়- সঞ্চিতা চ্যাটার্জী, বন্দনা সাহা, আনোয়ার হোসেন, বিশ্বজিৎ দাস, স্বচ্ছতোয়া শিলু, জানিফা হুনাইসা হোসেন, জানিসা ইনসাফা হোসেন। গানে মিতা সেন। শ্রুতি নাটকে সনৎ দে, অঞ্জনা দে, প্রহ্লাদ পাল, শিউলি সাহা, মৌসুমী মজুমদার, শর্মিষ্ঠা বসু, অভিজিৎ বিশ্বাস, লোপা চক্রবর্তী, শিপ্রা চক্রবর্তী, মিতা দাস। অন্যান্য শিল্পীগণ হলেন ইন্দ্রানী রায় চৌধুরী, শহিদুল বিশ্বাস (শহীদ), অদিতি চক্রবর্তী, দিলীপ কুমার মিত্র, পারিজাত চৌধুরী, গোপা ভট্টাচার্য রায়, তনুশ্রী গুপ্ত, শংকর কুমার রায়, সঞ্জয় ব্যানার্জি, স্বপন চক্রবর্তী। সাথে ছিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এই সাহিত্য সংস্থা লক্ষ্য রাখে কবি লেখক শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক বন্ধুদের যাতে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে, সেজন্য তাঁরা সাহিত্য সভায় সাথেই রাখেন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। শুধু তাই নয় -এই সংস্থার আছে মেডিকেল টিম যেখানে হোমিওপ্যাথি কলেজের অভিজ্ঞ ডাক্তার বাবুরাও আছেন। আরও আছে এই সংস্থার এসোসিয়েটস মেডিকেল টিম সমস্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও ঝাড়খণ্ড বা অন্য কয়েকটি রাজ্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। খাদ্য বস্ত্র ও বিতরণ করা হয়। সমস্ত শিল্পীগন এক সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

    নতুন গতি

    News Publication