মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

 

     

    খান আরশাদ, বীরভূম 

    মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গেছে। ইডির এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাজারমূল্য বর্তমানে কয়েক গুণ বেশি হলেও নথিবদ্ধ ক্রয়মূল্য অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, এই সম্পত্তিগুলো মূলত ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ বা দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে কেনা হয়েছিল।
    বাজেয়াপ্ত
    সম্পত্তির সংখ্যা মোট ১০ থেকে ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি এই তালিকায় রয়েছে।
    সম্পত্তিগুলো মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিং, তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্রের নামে নথিভুক্ত ছিল এবং এর মধ্যে ৪টি ফ্ল্যাট, প্রচুর পরিমাণ জমিও রয়েছে।
    বেশিরভাগ সম্পত্তিই মন্ত্রীর খাসতালুক বীরভূমের বোলপুরে অবস্থিত।
    ইডি দাবি করছে কুন্তল ঘোষের ডায়েরি থেকে প্রথম মন্ত্রীর নাম সামনে আসে, যেখানে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার নাম উঠে আসে। এরপরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মন্ত্রীর বোলপুরের বাড়িতে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালান এবং সেখান থেকে নগদ ৪১ লক্ষ টাকা ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেন।উল্লেখ্য যে, প্রায় ছয় মাস আগেই এই দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল ইডি। শুক্রবার কলকাতার সিবিআই বিশেষ আদালতে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইডি।
    গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন এবং সেই সময় তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্তে আদালত মন্ত্রীর আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও তাঁর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রী নিজের বিধানসভা এলাকা এবং কলকাতা ছাড়া অন্য কোথাও যেতে পারবেন না।
    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আগামী ৬ই জানুয়ারি রামপুরহাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে জনসভা রয়েছে,সেই জনসভাকে ম্লান করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে এই ‘ভীতি প্রদর্শন’ করানো হচ্ছে। শাসক দলের নেতৃত্বের বিশ্বাস এসব কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে না এবং বীরভূমের ১১টি আসনেই তারা জয়লাভ করবে , দাবী তৃণমূলের।
    অন্যদিকে অভিযুক্ত মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিং এই দুর্নীতির দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান
    “আমি এই মুহূর্তে বাইরে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। যেহেতু ঘটনাটি বিচারাধীন, তাই কোনো মন্তব্য করব না। তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আমি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা চালিয়ে যাবো।”
    এখন ইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষ।

     

    নতুন গতি

    News Publication