মাদ্রাসার ফল প্রকাশ : পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠনের

রেশমিকা ইয়াসমিন, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা উন্নয়ন দপ্তরের অধিনস্ত পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের ব্যবস্থাপনায় হাই-মাদ্রাসা,আলিম এবং ফাজিল পরীক্ষার ফলপ্রকাশ করা হল শুক্রবার বেলা ২ টার সময় ।উক্ত দিন সল্টলেকে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ডঃ আবু তাহের কামরুদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন সচিব সেখ আব্দুল মান্নাফ আলি, উপসচিব সাবানা সামিম,ডঃ আজিজার রহমান প্রমুখ। হাই মাদ্রাসায় (মাধ্যমিক) প্রথম হয়েছেন- মালদা রামনগর হাই মাদ্রাসার সাহিদুর রহমান, তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৭৮, শতাংশের হিসাবে ৯৭.২৫ শতাংশ।হাই মাদ্রাসার যুগ্মভাবে দ্বিতীয়:-মুর্শিদাবাদের তামান্না সুলতানা ও রমিজ পারভেজ, প্রাপ্ত নম্বর ৭৭৫ ।হাই মাদ্রাসার যুগ্মভাবে তৃতীয়: মালদার মহারাজনগর হাই মাদ্রাসায়মুহাম্মদ ইব্রাহিম, তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৭৩।আলিমে প্রথম হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার নুরুন্নবী সিনিয়র মাদ্রাসার ইরফান হোসেন, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর হল ৮৬০।ফাজিলে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়েছেন বসিরহাট আমিনিয়ার সিনিয়র মাদ্রাসার সাইদুল সাপুই, তার প্রাপ্ত নম্বর 559 এবং মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাপ্ত নম্বর 557,

    পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস দল অনুমোদিত একমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এর রাজ্য সভাপতি এ কে এম ফারহাদ। তিনি বলেন বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনদরদী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন রকমের জনমোহিনী প্রকল্প আজ সর্বতোভাবে প্রতিফলিত হওয়ার ফলেই মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের রমরমা বেড়েছে। তিনি বলেন বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়,সম্প্রীতির মুখ ফিরহাদ হাকিম এর মত জনমুখী নেতৃত্বের যে কর্মযজ্ঞ প্রতিফলিত হচ্ছে তার জন্যই শান্তি সম্প্রীতি উন্নয়নের ধারা অক্ষুন্ন রেখে সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন মুখী বাংলা হয়ে উঠেছে।
    দক্ষ সংগঠক ফারহাদ বলেন বাম আমলের সংখ্যালঘু বাজেট ও বর্তমান সময়ের তুলনা টানেন। তিনি বলেন, আগে মাত্র ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হতো এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করেছে।সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এই রাজ্যে ৪৩ লাখ পড়ুয়াকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়, শিক্ষাঋণ, কবরস্থানের,সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ইত্যাদির কাজ হয়।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্যস্থান দখল করা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনাও করেন একেএম ফারহাদ।তাঁর কথায়, কেন্দ্র সরকার চায় না সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন হোক। আমাদের রাজ্যে অনেক আর্থিক সংকট রয়েছে, কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে ঠিকই তবুও সরকার সবার উন্নয়নে সমান নজর দিচ্ছে। সরকার মনে করে, সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুদের সমুন্নত উন্নয়ন বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। হিন্দু-মুসলিম নয়, মানুষই শেষ কথা।
    মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনে অগ্রাধিকার দিয়ে আধুনিক স্মার্ট ক্লাস, বিভিন্ন রকমের স্কলারশিপ মিনা মঞ্চ সবুজ সাথী ঐক্য শ্রী কন্যাশ্রীর মতো পরিষেবা প্রদানের জন্যই মাদ্রাসা গুলিতে একদিকে যেমন ড্রপ আউট এর সংখ্যা কমেছে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনার মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি জানায়। পঠন পাঠন কে আরো বেশি ত্বরান্বিত করতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে চলেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
    শুক্রবার সন্ধ্যায় ফল প্রকাশের কিছু সময়ের মধ্যেই আলিমে প্রথম স্থান অধিকারী উঃ ২৪ পরগনা জেলার নুরুন্নবী সিনিয়র মাদ্রাসার মোঃ ইরফান এর বাড়িতে সম্বর্ধনা দিতে উপস্থিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদ্রাসা টিচার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি একেএম ফারহাদ এর নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক নূরুল হক, সওকাত হোসেন পিয়াদা, জাকির হোসেন, মাওলানা আসরাফ হোসেন,আবদুল খালেক খান,সফিয়ার রহমান,মোঃ অমিত মন্ডল,আসাদ আলী,রেজওয়ান হোসেন, কামরুজ্জামান,হাফিজুর রহমান,মেহেদী হাসান,বসির আব্বাস,কওসার হোসেন প্রমুখ।

    নতুন গতি

    News Publication