পুতুল নাচ শিল্পীদের দাবি তাদের আর্থিক অনটনের দিকে নজর দিক সরকার

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: একদিকে করোনা অন্যদিকে লকডাউন এই পরিস্থিতিতে বেহাল মালদা জেলার প্রাচীন লোকসংস্কৃতি মানব পুতুল নাচ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ তাদের অনুষ্ঠান। আর্থিক অনটনে জর্জরিত শিল্পীদের অনেকেই পেশা বদল করে কেউ ঘরাম হিসাবে দিনমজুরের কাজ করছে ।আবার অনেকে কেউ আম ভাঙ্গার কাজ করছে। এরকম পরিস্থিতি থাকলে এই শিল্প একদিন ধ্বংসে পরিণত হবে। তাই তাদের দাবি সরকার এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করুক।

শিল্পীরা কেউ কেউ মাসিক 1000 টাকা সরকারি ভাতা পেলেও করোনা আবহে সরকারি ভাতা ও ঠিকমতো আর পাওয়া যাচ্ছে না । তার উপর আবার প্রায় দু’বছর ধরে সরকারি প্রোগ্রাম পাচ্ছে না।

মালদা জেলার ইতিহাসের সঙ্গে যেমন গম্ভীরা গান ওতপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছে। তেমনি মানব পুতুল নাচ জেলার ঐতিহ্য বাজারে গণ্ডি পেরিয়ে সুনাম অর্জন করেছে ভিন রাজ্যে ও।

মালদা ইংরেজবাজার ব্লকের মানিকপুর এলাকার মানব পুতুল নাচ খুবই পরিচিত। শিল্পী হিমাংশু মন্ডল জানান 2005 সাল থেকে তারা প্রথম মানব পুতুল নাচ পুতলা,পুতলি,অন্বেষা সাংস্কৃতিক মঞ্চ নামে মানব পুতুল নাচ শুরু করেছিলেন । পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাদের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সরকারি প্রোগ্রাম থেকে বিভিন্ন বেসরকারি অনুষ্ঠানেও তারা তাদের এই মানব পুতুল নাচ দেখিয়ে সুনাম অর্জন করেছে। বহু জায়গা থেকে ট্রফি শংসাপত্র পেয়েছে। লকডাউন এর পরিস্থিতি তারা এখন ঘর বিপাকে দিনের-পর-দিন কোনো অনুষ্ঠান বা সরকারি প্রোগ্রাম না পাওয়ায় বিপন্ন তাদের পরিবার । এমন পরিস্থিতিতে সকলেই চাইছেন দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটুক। সরকার শিল্পী ভাতা 1000 টাকা করে দিচ্ছিলেন কিন্তু সেটাও এক করোনার আবহে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এক সময় সরকারের তরফ থেকে 25, 30 , টা বছর এ অনুষ্ঠানে পেতেন তারা। কিন্তু প্রায় দু’বছর ধরে অনুষ্ঠান বন্ধ। তাদের দাবি সরকারের কাছে প্রতিমাসেই শিল্পী ভাতা যাতে শিল্পীদের দেওয়া হয় ।পাশাপাশি বছরে 100 টি প্রোগ্রাম যাতে দেওয়া হয়। তাহলেই এই শিল্প কে রক্ষা করা যাবে।

আরেক শিল্পী মুরলি রাম মন্ডল জানান আমি একজন মানব পুতুল শিল্পী কিন্তু বর্তমানে আমি এখন দিনমজুরি কাজ করছি। লকডাউন এর পর থেকে কোন অনুষ্ঠান আর হয়না। পেটের তাগিদে পরিবারকে বাঁচাতে তাই দিনমজুরির কাজ করছি। সরকারি ভাতা ও ঠিকমতন পাইনা। আমরা চাই পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি ঘটুক। এই বিশ্ব মহামারিতে সরকার তাদের দিকে বাড়িয়ে দিক সাহায্যের হাত। না হলে হয়তো অচিরেই বিপন্ন হবে এই লোকসংস্কৃতির ধারা।