“আমাকে একটা ইডি দেখালে আমি বস্তা ভরে তথ্য দেব”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক: TMCP-এর প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পত্নী রুজিরাকে তলব করেছে ED। সেই প্রসঙ্গে এদিনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে মমতার তোপ, ‘দিল্লি যখন রাজনীতিতে পারে না তখন এজেন্সি লেলিয়ে দেয়।’

কালীঘাটের সভামঞ্চে মমতার হঁশিয়ারি, ‘আমাকে একটা ইডি দেখালে আমি বস্তা ভরে তথ্য দেব। রাজনীতি করলে রাজনৈতিক সৌজন্য রেখে করুন। অভিষেকের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হলে রাজনৈতিকভাবে করুন। নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে লড়তে হলে রাজনৈতিকভাবে লড়ুন। বক্সী থেকে কাকলি সবার সঙ্গে লড়তে চান, রাজনৈতিকভাবে লড়ুন।’ এখানেই শেষ নয় অমিত শাহকে নিশানা করে মমতার তোপ, ‘এত প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি আগে দেখিনি। মনে রাখুন অমিত শাহ এটা চলতে পারে না।’

কয়লা প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান মমতা। বলেন, ‘ কয়লা চুরিতে শুধু তৃণমূলকে ধরলে হবে। কয়লা তো কেন্দ্রের বিষয় রাজ্যের নয়। BJP নেতাদের নিয়ে সিবিআই তদন্তে যাচ্ছে কেন? প্রচারে এসে আসানসোলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কয়লা মাফিয়ার হোটেলে এসে ওঠে।’

মমতার নিশানায় কেন্দ্রের ন্যাশনাল মানিটাইজেশন পলিসি । তিনি বলেন, ‘দেশের মাটি কি কখনও বিক্রি হয়? BJP সরকার শুধু গুলি আর গালির সরকার। এই সরকার অমানবিক সরকার। ওঁরা গোটা দেশকে বিক্রি করার ছক কষছে। মানুষের চোখ-কান-নাক-গলা-জিভ সব বেচে দেবে। রেল স্টেশন, এয়ার ইন্ডিয়া, কয়লা সব বেচে দেবে কেন্দ্র। রেল স্টেশনে প্ল্যাকার্ড লাগান ওটা BJPর নয়।’

এজেন্সি লাগিয়ে দুর্নীতির তদন্ত করতে হলে বিজেপির নিজের ঘরে করা উচিত বলে মন্তব্য তৃণমূল সুপ্রিমোর। তিনি বলেন, ‘বন্ড বেচে বিজেপির ঘরে যে টাকা এল সেগুলোর ইডি দিয়ে তদন্ত করা উচিত। PM cares-এর টাকা কোথায় গেল। সংসদ ভবন বানানোর টাকা আছে, অথচ ভ্যাকসিন কেনার টাকা নেই। ডিজেল-পেট্রোল-গ্যাসের দাম এত বাড়িয়েছেন, টাকা কোথায় গেল? ‘

এদিন বক্তব্যের শুরুতে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘সরকারে এসে ভোগ করতে পারতাম। কিন্তু তা করিনি। ক্ষমতায় এসে দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছে।’ ছাত্র যুবদের জন্য রাজ্য সরকারের চালু করা সুযোগ সুবিধার খতিয়ান এদিন উঠে আসে সুপ্রিমোর গলায়। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটের পর এসেই পূরণ করেছি। মা-মাটি-মানুষের সরকারের আগে রাজ্যে কিছুই ছিল না। সব আমরা করেছি। শিক্ষাক্ষেত্রে ১০ গুণ বরাদ্দ বেড়েছে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ। যা ৪০ বছর বয়সেও শোধ করা যাবে।’

একইসঙ্গে ত্রিপুরার BJP সরকারকে কটাক্ষ মমতার। বলেন, ‘ত্রিপুরায় প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি BJP। ভোটের আগে চাকরি দেওয়ার কথা বললেও, ক্ষমতায় আসার পর উল্টে শিক্ষকদের চাকরি গিয়েছে।’

শনিবার সকালেই ত্রিপুরা, আগরতলাতেও TMCP-এর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে পতাকা তোলা হয়। এদিন তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, বেলা একটার মধ্যে TMCP প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে তিন লাখেরও বেশি টুইট হয়ে গিয়েছে। দলের যুব শাখাকে উৎসাহ দিতেই এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো টুইটে লিখেছেন, ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে আমি ছাত্র পরিষদের সকলে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ছাত্রদের সাফল্যে আমি গর্বিত। দলের জন্য ছাত্র পরিষদের সদস্যরা অপরিসীম ভূমিকা গ্রহণ করেছে। আজ আমি সকল ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে জানাচ্ছি, যে শক্তিগুলি দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আমাদের সঙ্গে যোগদান করুন।’