নকশালবাড়িতে স্ত্রী শিশু সহ বাঙালিকে মারধোর ও দোকান ভাঙচুর ছটব্রতীদের

নতুন গতি প্রতিবেদক: বহিরাগত ছটব্রতীদের হিংস্র আক্রমণ বাংলার ভূমিপুত্র‌ পরিবারের উপর। স্ত্রী-শিশু সন্তান কেউ বাদ যায়নি আক্রমণ থেকে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাঙালি জাতির রাজবংশী সম্প্রদায়ের খাবারের দোকান। খোদ বাংলার মাটিতে, বিহারে নয়। ঘটনাটি দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির। বাংলার ভূমিপুত্র রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভাই অর্জুন বর্মন ও নিতাই রায় একটি অস্থায়ী ফাস্টফুডের দোকান করে মেইচি নদীর ধারে। সেখানে বহিরাগত ছটব্রতীরা কমিটি বানিয়ে ভূমিপুত্রদের থেকে মোটা টাকা বেআইনিভাবে আদায় করে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। যাতে ছটব্রতীরা ভূমিপুত্রদের কাছ থেকে কেনাকাটা না করে, তাই আমিষ খাবার বিক্রি হচ্ছে, এই অজুহাতে রাত আটটার পর হঠাৎ কিছু বহিরাগত সমাজবিরোধী ভূমিপুত্র রাজবংশীদের দোকানে হামলা চালায়। বাংলার নিজস্ব সকল উৎসবের মেলাৎ আমিষ খাবারের স্টল থাকে। কিন্তু আমিষ খাদ‍্য বিক্রির অভিযোগে ডিমসহ দোকানের সব খাদ‍্যদ্রব‍্য নষ্ট করে দেয়। ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় হতদরিদ্র রাজবংশী পরিবারটির দোকানের সব ডিম ও অন্যান্য সব খাবার। তারপর বহিরাগতরা নির্মমভাবে মারে ভূমিপুত্র রাজবংশী পরিবারটিকে। বাংলার মাটিতে বাংলার ভূমিপুত্র পরিবারের উপর বহিরাগতদের এই জাতি-বিদ্বেষী আক্রমণে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাঙালি সহ সকল ভূমিপুত্রদের মধ্যে। বাংলার মাটিতে কোথায় বাঙালি সহ যে কোন ভূমিপুত্র কোথায় বেচবে, কি বেচবে, এটা ঠিক করার অধিকার বহিরাগতদের নেই – বাংলা পক্ষ এই স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। বাঙালি জাতির রাজবংশী সম্প্রদায়ের দোকান ভাঙা ও পরিবারটিকে নৃশংসভাবে মারার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলা পক্ষ।

প্রসঙ্গত দুর্গাপুজোয় শিলিগুড়ি, আসানসোল, কলকাতা সহ বাংলার বড় শহরগুলোতে বহিরাগতদের অস্থায়ী দোকান কিন্ত বাঙালিরা ভাঙেনি। ইতিমধ‍্যেই আক্রান্ত পরিবারের তরফে নকশালবাড়ি থানায় FIR করা হয়েছে প্রকাশ মিশ্রা, তাপাস ও রবিয়া নামক তিন বহিরাগত হিন্দিভাষীর বিরুদ্ধে। বাংলা পক্ষর শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার এক প্রতিনিধি দল এদিন গিরিধারী রায় (সম্পাদক, শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা) এর নেতৃত্বে আক্রান্তদের বাড়ি যায় ও তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বাংলা পক্ষ সংগঠন এই পরিবারগুলোর পাশে আছে। স‌ংগঠনের পক্ষ থেকে থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয় ও দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় যাতে বাংলার মাটিতে বহিরাগতরা কোন উপদ্রব করার সাহস না পায় আগামী দিনে।