অপ্রত‍্যাশিত ফলে শশ্মানের নিস্তব্দতা

রাহুল রায়, পূর্ব বর্ধমান: কথায় বলে যদি মনের মধ্যে জেদ ও সততা থাকে তা হলে যে কোন অসাধ্যই সাধন করা যায়, সেখানে কোন বাধায় হার মানাতে পারে না। তেমনী এক প্রকৃষ্ট উদাহরন সুজয় সাহা।
গত ২১শে মে ২০১৯ তারিখে মাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে, আর তাতে সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে সুজয় সাহা।পারিবারিক কঠিন দারিদ্রতা তার অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মানতে, বলা ভালো পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ভারতী ভবন উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল সুজয়। তাঁর বাড়ি কাশীগঞ্জ পাড়া গঙ্গারঘাটের বাঁধের নীচেই, যেখানে বর্ষার সময় বন্যা হলে পুরো এলাকা জুড়ে জলমগ্ন হয়ে যায়।

বাবা হরিশচন্দ্র সাহা, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধিকতা থাকা সত্ত্বেও একটি দোকানে কাজ করেন খুবই স্বল্প আয়ে।
মা সরস্বতী সাহা গৃহবধূ, তবুও অভাবের সংসারে ছেলেকে পড়াশোনা করানোর জন্য বেশ কিছু বাড়িতে গিয়ে পরিচালিকার কাজ করেন।

সুজয়ের পাড়া-প্রতিবেশীরা বলেন, সুজয়দের পরিবার খুবই দুঃস্থ।সুজয় খুব ভালো ছেলে ও খুবই মেধাবী পড়াশোনাতেও।

সুজয়ের প্রাপ্ত নম্বর ৫৬০।
বিভিন্ন বিষয়ে সুজয়ের নম্বর হলো বাংলায় ৭৭, ইংরেজিতে ৭৩, অঙ্কে ৯২, ভৌত বিজ্ঞান ৯০, জীবন বিজ্ঞান ৭৬, ইতিহাস ৬০, ভূগোল ৯২।

সুজয়ের বাবা বলেন, দারিদ্রতা আমাদের নিত্যসঙ্গী। পরবর্তী ক্লাসে সুজয় বিজ্ঞান বিভাগ পড়তে চায়। কিন্তু আমার আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো না, তাই ছেলের ইচ্ছেকে সফল করা আমার পক্ষে খুব কঠিন। বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়লে অনেক খরচ, কিভাবে সামলাব? দুঃশ্চিন্তা সুজয় ও সুজয়ের বাবা-মায়ের।
সুজয়ের পরিবারের তাই আবেদন, যদি সরকারি ভাবে কোন সাহায্য মেলে তাহালে তার ছেলের স্বপ্ন পূরন হয়।

পাশাপাশি কোন সুহৃদয় ব্যাক্তি যদি সুজয়ের পড়াশোনার জন্য বিশেষ ভাবে কোনো উপকার করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে খুবই উপকৃত ও কৃতজ্ঞ হই, এই আবেদন সুজয়ের পরিবার ও তার প্রতিবেশী দের।