বেলদাতে আঞ্চলিক ভাষায় পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলদা:  কেলেঘাই ও বাঘুই পাড়ের মিঠা ভাষা চর্চার উদ্যোগে রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হলো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদার অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেলদা গঙ্গাধর একাডেমীতে। মূলত কেলেঘাই ও বাঘুই নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কথ্য ভাষাকে গুরুত্ব দিতে “‘মা’র ভাষাই মোর ভাষা'” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ। আধুনিকতার কারনে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা আজ বিপন্ন। সেই ভাষাকে ভালোবেসে ও বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে সম্পূর্ণ কথ্যভাষায় অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ড. মধুপ দে, লোককবি পরেশ চন্দ্র বেরা, প্রাক্তন শিক্ষক ও নাট্যব্যক্তিত্ব যুগজিৎ নন্দ, বেলদা গঙ্গাধর একাডেমীর প্রধান শিক্ষক কার্তিক আচার্য ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল শীট। পরে ভাষা শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন উপস্থিত গুণীজনেরা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যুগজিৎ নন্দ। সম্পুর্ন আঞ্চলিক ভাষায় লেখা “ছামু দুয়ার” নামক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই অঞ্চলের ভাষায় এই প্রথম কোন অনুষ্ঠান ও পত্রিকা প্রকাশিত হলো। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ভাষাকে বাঁচানোর জন্য আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট জনেরা।

 

ড. মধুপ দে বলেন, ‘এমন এক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা আবশ্যক।’ লোক কবি পরেশ চন্দ্র বেরা বক্তব্য রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষায় কবিতা পাঠ করেন। ননীগোপাল শীট তাঁর বক্তব্যে বলেন ‘ছাত্রাবস্থায় নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াকালীন, আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার জন্য বন্ধুদের কাছে উপহাসের পাত্র হয়েছিলেন।’ শিক্ষক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক সন্তু জানা বলেন- ‘এই অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় এমন উদ্যোগ এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করলো।’ এছাড়াও ভাষা সম্পর্কে আলোচনা করেন ড. প্রসূন কুমার পড়িয়া, সুনীল বরণ প্রধান, অখিলবন্ধু মহাপাত্র, সুব্রত মহাপাত্র সহ বিশিষ্ট জনেরা lউপস্থিত ছিলেন বিশ্বসিন্ধু দে, অতনু মিত্র, অমিত কুমার সাহু , মণিকাঞ্চন রায়, সুমিত্রা সাউ গিরি, প্রানাশীষ মাল, ব্রজকিশোর পড়্যা, রুমা দাঁ, আরতি জানা প্রমুখ l অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছি,আঞ্চলিক ভাষায় প্রবাদ প্রবচন প্রতিযোগিতা। সেরা তিনজন প্রতিযোগীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় ড. মধুপ দে ও পরেশ চন্দ্র বেরা কে। উপহার হিসেবে অনুষ্ঠানে সবাইকে একটি করে লক্ষীভান্ডার তুলে দেওয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠাটি সম্পুর্ন আঞ্চলিক ভাষায় সঞ্চালনা করেন মুখ্য উদ্যোক্তা নরসিংহ দাস।