মালদার কালিয়াচকের নাম আরও একবার শিরোনামে জেলা বা রাজ্য নয়, “কমনওয়েলথ স্কলার” আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল আলিশা ইবকার

মালদার কালিয়াচকের নাম আরও একবার শিরোনামে জেলা বা রাজ্য নয়, “কমনওয়েলথ স্কলার” আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল আলিশা ইবকার

নাজমুস সাহাদাত, মোথাবাড়ি: মালদার কালিয়াচকের নাম আরও একবার শিরোনামে জেলা বা রাজ্য নয়, কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আলিশা ইবকারের ।
আলিশা ইবকার মালদা জেলার কালিয়াচকের অন্তর্গত এক প্রত্যন্ত গ্রাম “নয়াগ্রাম ” তার জন্মস্থান। কালিয়াচকের মেয়ে আলিশা ইকবারের এই সাফল্য গোটা দেশজুড়ে সুনাম বৃদ্ধি করছে ।
তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের ওয়ারিউইক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে লন্ডনে পাড়ি দিচ্ছেন। জানা যায়, তার এই উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিটিশ সরকার। সারা পৃথিবীর ১৫৮ টি দেশ থেকে মোট ১০৫০ জন কে ব্রিটিশ সরকার একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে আলিশা আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত
আলিশার এই কৃতিত্বে খুশির হাওয়া কালিয়াচক তো বটেই, মালদহ জেলার শিক্ষা মহল থেকে রাজ্য ও দেশজুড়ে।
২০১৬ সালে দেশের বিখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এর ইংরেজি বিষয়ে অধ্যাপিকা পদে যার কর্মজীবন শুরু। সম্মান জনক পদ এবং উচ্চ মানের বেতনক্রম থামাতে পারেনি যার বিশ্ব জয়ের স্বপ্নকে। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের সাফল্যে আরও উচ্চশিক্ষার জন্য “কমনওয়েলথ স্কলার” হিসাবে ইংল্যান্ড অর্থাৎ ব্রিটিশদের দেশে পাড়ি দিচ্ছেন আলিশা।

আলিশার যেখানে জন্মস্থান। সেখানে উচ্চ শিক্ষার হার নাম মাত্র। শিক্ষাকে পুঁজি করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা যেখানে মসৃণ ছিল না।
শুধু তাই নয়, তার মা তানিয়া রহমত পেশায় তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনিও শিক্ষকতা ও সমাজ সেবায় জেলা ও রাজ্য স্তর এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

মা তানিয়া রহমাত বলেন, ভাগ্যবান দের মহান সৃষ্টি কর্তা উপহার হিসাবে কন্যা সন্তান দান করেন। প্রকৃত শিক্ষা, যত্ন , ভালোবাসা, মায়া মমতা দিয়ে লালিত হলে সেও হতে পারে এক অমূল্য রত্ন।
“আমি আজ গর্বিত দুই কন্যা সন্তানের এই উপহারে”।

আলিশার বাবা, একজন পেশায় ডাক্তার হাজেরুল ইবকার । তিনি রাজ নগর পঞ্চায়েতের আয়ুস মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। আলিশার একমাত্র বোন আলিফিয়া ইবকার তিনিও প্রেসিডেন্সি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে স্নাতকত্তোর সম্পন্ন করে দিল্লীর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

বাবা হাজেরুল ইবকার জানান, সন্তানদের লালন পালনের দীর্ঘ যাত্রা পথে তাদের জন্য বেশী বেশী সম্পদ , অর্থ জমা করার কথা কখনো ভাবিনি, “দুই কন্যা কে ই সম্পদ বানানোর চেষ্টা করেছি সর্বসময়”।

আলিশা উৎকর্ষ শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন নিয়ে ফরাক্কার ডি পি এস ( DPS) শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র জীবন শুরু হয় আলিশার। একের পর এক পড়াশুনা , খেলাধুলা, নাচ , আবৃত্তি তার আগ্রহ ও সাফল্য ক্রমশ বাড়তে থাকে। সব বিভাগেই পারদর্শী আলিশা সম্মানিত হয় বিদ্যালয়ের” সেরা ছাত্রী র” সম্মানে। তারপর যোগ্যতার ধাপ অতিক্রম করে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয় আলীগড় মুসলিম বিশ্ব বিদ্যালয়ে।সেখানেও একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে বিভিন্ন বিষয়ে। স্নাতক স্তরে শুধু কলা বিভাগেই প্রথম নয় , সেরা খেলোয়াড়, সেরা লেখিকা, সেরা বক্তা এবং সেরা অঙ্কনেও নির্বাচিত হয়ে প্রত্যেক টি বিভাগেই প্রাপ্তি স্বরূপ স্বর্ণ পদক পেয়েছেন তিনি। সম্মানিত হন বিশ্ব বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রী “পাপা মিয়া পদ্ম ভূষণ” উপাধিতে। তারপর আলিশা স্নাতকোত্তরে এ ভর্তি হয় দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন হতেই গবেষণামূলক পড়াশুনা শুরু করেন তিনি । ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি তে অধ্যাপিকা পদে আগমন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মনোনীত হয় আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপিকা পদে। বর্তমানে আলিশা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য। এতো কাজের মধ্যে যুক্ত থেকেও প্রতিদিন নিয়মিত পড়া শোনা এবং তার লক্ষে অবিচল থেকে অবশেষে কমন্ওয়েলথের এই আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে কমনওয়েলথ স্কলার হিসাবে তার এই বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার লন্ডন যাত্রা।

আলিশার এই সাফল্য শুধু কালিয়াচক, মালদা জেলা নয় গোটা রাজ্য তথা দেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছে।