মাদ্রাসা তল্লাশির নামে ইউপি এবং মধ্যপ্রদেশের মত আসামিয়া মাদ্রাসার উপর বুলডোজার চালানো ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ -মোহাম্মদ আহমদ বেগ নাদবী

নতুন গতি, ওয়েব ডেস্ক : অল ইন্ডিয়া ইমামস্ কাউন্সিল এর জাতীয় সভাপতি মাওলানা আহমদ বেগ নাদবী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন যে আসামে মাদ্রাসা জামিউল হুদা এবং হায়দ্রাবাদে শামসাবাদ মসজিদ, পৌরসভা কর্তৃক বুলডোজার চালানো রাজ্য সরকারের এক অত্যাচার মূলক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক পদক্ষেপ। সেই সাথে এটা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক । মুসলমানদের মসজিদ ও মাদ্রাসা নিজের প্রাণ থেকেও প্রিয়, তাই মুসলমানরা এসবের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

অল ইন্ডিয়া ইমাম কাউন্সিলের জাতীয় সভাপতি, এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত সহ তিরস্কার করে বলেন যে, কেন বর্তমান সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির তরফ থেকে এই অপবিত্র ও নোংরা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ? এই দেশ একা সংঘ পরিবারের দেশ নয় ! কিছু মানুষ দেশের নির্যাতিত মানুষদের শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে ! ভারতকে ২০৪৭ পর্যন্ত ইসলামিক দেশ তৈরি করার কাল্পনিক অভিযোগ এনে মুসলমানদের বিভিন্নভাবে কেস দেওয়া হচ্ছে, এটা একটা বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ! এভাবে সারা দেশব্যাপী অন্যায় ভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ কখনো উন্নতি করতে পারে না।

নিজেদের পছন্দের ফুল বেছে নিয়ে অন্যদের ফুলকে পদদলিত করা সবচেয়ে বড় অপরাধ । এ দেশ বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির একার নয় । হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা স্কুল চালানো সেই সাথে বিভিন্ন মন্দিরে ঘণ্টা বাজানো যদি অধিকার থাকে, তাহলে মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের সেই সাথে বৌদ্ধদের সকলের নিজের নিজের উপাসনালয় নির্মাণ সেই সাথে উপাসনা করা ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করা ও তাদের ধর্ম মত প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা সাংবিধানিক অধিকার। সারা দেশে যেভাবে রাজনীতি করা হচ্ছে সেই সাথে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীদের একতাবদ্ধ হয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে একসঙ্গে ময়দানে নামা উচিত।

বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের যতদূর সম্ভব এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত । আর এই অত্যাচার বন্ধের জন্য অশিক্ষিত মানুষদের চেয়ে শিক্ষিত মানুষদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। অত্যাচারীদের সামনাসামনি দাঁড়িয়ে অত্যাচার বন্ধের জন্য ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও কোন ভালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিনিয়ত দুর্বল হতে যাচ্ছে,তারপর দেশে হয়তো সেই মুহূর্ত আসবে যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়বে। এদেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান ইতিহাসের পাতায় সুরক্ষিত আছে।

জার্মানির হিটলার যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে মানুষের রক্তের হোলি খেলেছিল সে নিজের রিভলবার দিয়ে নিজেকে শেষ করতে বাধ্য হয়েছিল। যা আমাদের দেশ ও সমস্ত অত্যাচারীদের জন্য উপদেশ গ্রহণের মাধ্যম হতে পারে। এজন্য মসজিদ এবং মাদ্রাসা কে ভেঙে ফেলার এই প্রবণতা বন্ধের জন্য প্রশাসনের বেশি বেশি নজর দিতে হবে । অন্যথায় দেশে আরো বেশি অস্থিরতার সৃষ্টি হয়ে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও জাতীয় সংহতি আরো দুর্বল হবে, এমন পরিস্থিতিতে,এই প্রবণতা বন্ধের জন্য দেশের সমস্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ সেই সাথে ধর্মীয় পথ প্রদর্শকদের নিকট আবেদন জানাচ্ছি বিশেষ করে সমস্ত ওলামায়ে দ্বীনের প্রতি, যাদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে, আসুন একতাবদ্ধ হয়ে স্লোগান তুলি এবং যাবতীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলি।