আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিক্ষোভের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করলো উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায়

নিজস্ব সংবাদদাতা,নতুন গতি, মুর্শিদাবাদ : আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিক্ষোভের সমর্থনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবী ও নাজিমুদ্দীনকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বিক্ষোভ মিছিল মুর্শিদাবাদের হোসেন নগর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায়।

 

 

২০০ অধিক ছাত্র নিয়ে এই মিছিল শুরু হয়। হোসেন নগর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে ছকন্নগর পর্যন্ত গিয়ে আবার মাদ্রাসায় ফিরে শেষ হয় ।

 

উক্ত মাদ্রাসার বর্তমান ছাত্র মুর্শিদ আলম বলেন – আজকে দীর্ঘদিন ধরে চলছে আলিয়ার আন্দোলন । তাদের দাবী দাওয়া গুলো নায্য, তারপরেও সংখ্যালঘু মন্ত্রী , দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তাদের দাবী পূরণ বা অবস্থান মঞ্চে যেতেই অনিচ্ছুক । আমাদের দাবী অবিলম্বে মন্ত্রী গিয়ে অবস্থানকারীদের সাথে কথা বলুক আর না হলে আমরা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানে শরিক হবো।

 

আজকের এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি সাজিদুর রহমান, আলিয়ার ছাত্রনেতা লুৎফুল হক, সোয়াইল হক ,আখের আলী, হাসান ও দেলোয়ার , জামীল,জাকির,আব্দুল্লাহ, মেহেদী হাসান।

 

সাজিদুর রহমান জানান যে, এই বিক্ষোভ মূলত তিনটি দাবিকে সামনে রেখে ১. আলিয়ার আন্দোলনের সমর্থনে ২. নাজিমুদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে ৩.স্বাস্থ্যবিধি নেমে ৫০ শতাংশ ছাত্র নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক ।

এমনকি তিনি আন্দোলনের ১০০ তম দিনে আমরা আমরণ অনশনে যাওয়ার কথা জানান নতুন গতি কে।

 

সাজিদুর রহমান আরো বলেন সব কিছু ৫০ শতাংশ নিয়ে খোলা হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ সত্যি অবাক লাগছে । করোনার প্রকোপে মানুষের জীবন যতটা বিপর্যস্ত হয়েছে, তার থেকে কোন অংশে কম ক্ষতি করেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গৃহীত সরকারের সিদ্ধান্ত। দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ভাবে পিছিয়ে পড়েছে, শিক্ষার মান কমে গিয়েছে অনেকটা । বিশেষত প্রান্তিক জেলার পড়ুয়ারা অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে নেটওয়ার্কের সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে। অনেক ছাত্রীকে পড়াশোনার পাঠ তুলে দিয়ে বসানো হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে। অনলাইন পঠন পাঠন এক প্রকার ধ্বংস করেছে প্রযুক্তিগত ভাবে পিছিয়ে থাকা জেলার মেধাবী পড়ুয়াদের।

হোসেন নগর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা প্রাক্তন ছাত্র ও আলিয়ার ছাত্রনেতা লুৎফুল হক জানান ,আজ আমরা বিগত ৯৭ দিন ধরে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু সংখ্যালঘু দপ্তর ও সংখ্যালঘু মন্ত্রী মহাশয়ের কাছ থেকে কোনো সুরাহা মেলেনি।

আমরা চাই সংখ্যালঘু মন্ত্রী মহাশয় আমাদের অবস্থান মঞ্চে এসে সমধান দিয়ে যাক। আর পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় নাজিমুদ্দিনের মতো দ্বিতীয় কোনো ঘটনা দেখতে চাই না।

রাজ্য সরকার কাছে দাবি অবিলম্বে মবলিঞ্চিং আইন প্রণয়ন করুন।সবশেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এই মিছিল শেষ হয় ।