চিচুড়িয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টারঃ পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল লোকসভার জামুড়িয়া বিধানসভার খনি-শিল্পাঞ্চলের প্রাচীন গ্রাম চিচুড়িয়ায় সরোজ ভট্টাচার্য স্মৃতি রক্ষা পরিষদের উদ্যোগে ও চিচুড়িয়া গ্রামবাসী এবং সংলগ্ন এলাকার সংস্কৃতি মনস্ক মানুষের সহযোগিতায় সারাদিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চিচুড়িয়া উপেন্দ্রনাথ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতা। দূর্গাপুর , রানিগঞ্জ, আসানসোল বার্নপুর, কুলটি, ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা গুলি থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় প্রায় তিনশো প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন । প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ সাঙ্গুই, প্রধান চিচুড়িয়াগ্রাম পঞ্চায়েত, বিদ্যুৎ মুর্খাজি, বিশ্বপতি মিত্র, ধরমদাস কবিরাজ, বিভাস গোস্বামী,ছন্দা পাত্র, সঙ্গীতায়ন মিউজিক কলেজের কর্ণধার বিদ্যুৎ কুন্ডু, পদাতিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক-প্রাবন্ধিক গুণময় ফৌজদার, অঞ্জলি পত্রিকার সম্পাদক- কবি বীরেশ কুন্ডু, সঙ্গীতজ্ঞ অসীমানন্দ অধিকারী প্রমুখ। আলোচনায় উঠে আসে, সাধারণের দিন যাপন দুষ্কর হয়ে পড়ছে। প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চা, সংগীত সাধনা, শিক্ষার্থীদের পাঠ চর্চার ক্ষেত্রে। সারস্বত মঞ্চ থেকে আহ্বান জানানো হয়, কবি শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের পথ অবলম্বন করে বিশেষ ভাবে ভাবনার। ধ্বনিত হয় আধুনিক যুগের অন্যতম বিরল প্রতিভা কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয়, আরো বেঁধে বেঁধে থাকি…’
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, চিচুড়িয়া খনি-শিল্পাঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান। গ্রামের শিক্ষার হার আজকের নয়, বহু যুগ থেকেই এলাকার প্রথম সারিতে। স্বাধীনতা পরবর্তী কালে পত্রিকা প্রকাশ, সাংস্কৃতিক পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে চিচুড়িয়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে । সংস্কৃতির এই পূণ্যভূমি কর্মভূমি হয়ে উঠেছিল শিক্ষক, কবি, প্রাবন্ধিক সরোজ ভট্টাচার্যের। তিনি চিচুড়িয়া উপেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শুধুমাত্র শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন এলাকার যুব সমাজের ‘সাংস্কৃতিক অভিভাবক’ । তাঁর স্মৃতি রক্ষা পরিষদ সেই দায়িত্ব বহন করে চলেছে। পরিষদের সভাপতি , খনি-শিল্পাঞ্চলের প্রথিতযশা কবি বিমান কুন্ডু জানান, চব্বিশ বছরে পদার্পণ করল এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। মানুষের সহযোগিতায় এটা সম্ভবপর হচ্ছে । তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চিন্তা চেতনার ক্ষেত্রে মানুষকে বার্তা দেওয়াটাই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য । অনুষ্ঠান ঘিরে চিচুড়িয়ায় সারাদিন ছিল উৎসবের মেজাজ।