আপ বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ক্রমশ বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব

উত্তর বঙ্গ: বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দোমোহনি এবং ময়নাগুড়ির মাঝে ভয়াবহ এই রেল দুর্ঘটনা ঘটে। আপ বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের বেশ কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার পাটনা থেকে গুয়াহাটিগামী ওই ট্রেনটি দুর্ঘটনাগ্রস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার এবং নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সেনা জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। ট্রেনটির ৪-৫ টি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ৪০ কিলোমিটার ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে খবর পাওয়া গিয়েছে।

ময়নাগুড়িতে আপ বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ক্রমশ বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। দুর্ঘটনাগ্রস্থ আপ বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের কামড়া থেকে শিশু এবং মহিলা সহ একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্থ কামড়াগুলির মধ্যে আরও দু-থেকে তিনিটি দেহ আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডি আই জি আনাপ্পা ই। তবে, অসমর্থিত সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু  হয়েছে অনেকের। গুরুতর আহত হয়ে ময়ানাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি হাসপাতালে আরও ২০ থেকে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়, রাত ১১ টা পর্যন্ত ৬ জনকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আহতদের রক্তের যোগান দিতে শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সহ বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং জলপাইগুড়ি হাসপাতালে রক্তদান করেন।

শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ইতিমধ্যে রেলের তরফে মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা এবং অল্প আহতদের ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিরপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে। রেল মন্ত্রীর পাশাপাশি দুর্ঘটনায় মৃতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুর্ঘটনার কারণে অসম এবং নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে রাজধানী, সরাইঘাট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, কামাখ্যা-এলটিটি-র মত গুরুত্বপূর্ণ ৯ টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে, দুর্ঘটনাগ্রস্থ ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে ফেরার জন্য, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বঙ্গাইগাও পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে।