পুজো নিয়ে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন, হবে না রেড রোডে কার্নিভালের আয়োজন

নতুন গতি, ওয়েব ডেস্ক : আগামিকাল মহালয়া। তার আগেই মঙ্গলবার পুজো নিয়ে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে যে, এবারও দুর্গাপুজোর পর রেড রোডে কার্নিভালের আয়োজন হবে না। এছাড়া, সব পুজো মণ্ডপেই যে কোনও ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এবার ছাড় দেওয়া হয়েছে দুর্গাপুজোর সময় সিঁদুরখেলা বা দেবীবরণের মতো রীতিতে। ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে এগুলি করা যাবে।

 

গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছিল যে, করোনা সংক্রমণের ইতি ঘটেনি। তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই উৎসবের আয়োজন করতে হবে। পুজো মণ্ডপে দর্শকরা প্রবেশ করতে পারবেন না। কোন কোন উদ্যোক্তারা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন পুজো কমিটিগুলিকে আগে থেকেই সেই সব ব্যক্তির নাম প্রসানকে জানাতে হবে। মণ্ডপের গায়েও সেইসব নাম লিখে টাঙিয়ে দিতে হবে। ছোট ও বড় পুজোর ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। গত বছর পুজোর ক্ষেত্রে যেসব বিধি কার্যকর ছিল সেগুলিই এবার বলবথ হবে বলে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

 

 

এরপরই মঙ্গলবার পুজো নিয়ে বৈঠক হয় নবান্নে। জারি করা হয় ১১ দফা নির্দেশিকা। সেখানেই উল্লেখ-

 

চারিদিক খোলা মণ্ডপ করতে হবে। যেখানে প্রবেশ এবং বেরনোর আলাদা জায়গা থাকবে।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মণ্ডপে পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে।

মণ্ডপে স্যানিটাইজার এবং মাস্কের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। কোনও দর্শনার্থী মাস্ক না পরে আসলে তাঁকে তা দিতে হবে পুজো কর্তৃপক্ষকে।

মণ্ডপে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদেরও মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। তাঁদেরও মেনে চলতে হবে শারীরিক দূরত্ববিধি।

দুর্গাপুজোর সময় সিঁদুরখেলা বা দেবীবরণের মতো রীতিতে ছাড়। তবে তা করতে হবে ছোট–ছোট গ্রুপে।

যাতে পুণ্যার্থীরা দূর থেকে মন্ত্র শুনতে পান তাই মন্ত্রচ্চারণের সময় পুরোহিতদের মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে হবে।

অঞ্জলির ফুল বাড়ি থেকে আনতে হবে।পুরষ্কারের ক্ষেত্রে বিচারকরা ভিড় করে মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না। সর্বোচ্চ দু’টি গাড়ি নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশে ছাড়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩ পর্যন্ত বিচারকরা মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন।

পুজো উদ্বোধন কিংবা বিসর্জনে জাঁকজমক চলবে না। নির্দিষ্ট সময়েই নদী বা পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন করতে হবে।

এবারও গতবারের মতো বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এতে উদ্যোক্তাদের খুশি ধরা পড়লেও জাঁকজমকে নিষেধাজ্ঞায় তাঁদের মন ভারাক্রান্ত।